কাপ্তাইয়ে সড়ক-ব্রিজ ধসে চরম দুর্ভোগ, ভোগান্তিতে দেড় হাজার মানুষ

কাপ্তাইয়ে সড়ক-ব্রিজ ধসে চরম দুর্ভোগ, ভোগান্তিতে দেড় হাজার মানুষ

কাপ্তাইয়ে সড়ক-ব্রিজ ধসে চরম দুর্ভোগ, ভোগান্তিতে দেড় হাজার মানুষ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাঙছড়ি নতুন পাড়ার একমাত্র চলাচলের সড়ক ও ব্রিজ ধসে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় দুই মাস আগে টানা বর্ষণে সড়কটির একটি অংশ মাটির নিচে ধসে যায়। এতে পাড়ার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বর্ষণের পর এর একটি অংশ ধসে গিয়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পাড়ার বাসিন্দাদের। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং কৃষকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয়রা জানান, ব্যাঙছড়ি ডাবল ব্রিজ ও নতুন পাড়া এলাকার এই সড়কটি পাড়ার মানুষের যাতায়াতের প্রধান ও কার্যত একমাত্র পথ। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। পাশাপাশি পাহাড়ে উৎপাদিত ঝুম চাষের ফসল, বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সড়কটির ওপর নির্ভর করতে হয় স্থানীয়দের।

সড়কটি ধসে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নতুন পাড়ায় প্রায় ১০০ পরিবারের বসবাস। এসব পরিবারের দেড় হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি সড়কটির ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বিভিন্ন অংশের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

পাড়ার হেডম্যান সুইচিমং মারমা ও মংসিলা কার্বারী বলেন, “আমাদের একমাত্র চলাচলের সড়কটি ধসে যাওয়ায় পাড়ার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। দ্রুত সড়কটি মেরামতের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা সুই প্রু মারমা ও উচিপ্রু মারমা বলেন, “সড়কটি ধসে যাওয়ায় স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা এবং অসুস্থ ও বয়স্ক মা-বাবাকে নিয়ে চলাচলে অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমরা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।”

৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইমান আলী বলেন, “সড়কটি ধসে যাওয়ার ঘটনা সত্য। এ কারণে এলাকাবাসীর চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করতে কিছু মেরামত কাজ করেছি। স্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কারের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।”

তবে স্থায়ী সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ না থাকায় আপাতত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, “আপাতত আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সড়ক ও ব্রিজটি সংস্কার করা না হলে আগামী দিনে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। এতে সড়কটির অবশিষ্ট অংশও ধসে গিয়ে নতুন পাড়ার সঙ্গে অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাঁদের দাবি, জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে স্থায়ী সংস্কারের জন্য দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে সড়কটি নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *