পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়কে এক কাতারে এনে মহালছড়িতে সম্প্রীতি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়কে এক কাতারে এনে মহালছড়িতে সম্প্রীতি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়কে এক কাতারে এনে মহালছড়িতে সম্প্রীতি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পাহাড়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে খেলাধুলার মাধ্যমে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে শুরু হয়েছে ‘সম্প্রীতি ফুটবল কাপ টুর্নামেন্ট-২০২৬’। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে মহালছড়িতে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মহালছড়ি স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।

সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্রা থোয়াই মারমা।

May be an image of one or more people

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, ক্রীড়াপ্রেমী, খেলোয়াড়, কোচ ও টিম ম্যানেজারসহ বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

১৬টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টকে শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন না আয়োজকরা। বরং পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে পারস্পরিক পরিচয়, বন্ধুত্ব, আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে আয়োজনটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

May be an image of one or more people and text

পাহাড়ি জনপদে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ক্রীড়াঙ্গনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান, দলগত সহযোগিতা ও সহনশীলতার মানসিকতা তৈরি করে। মহালছড়ির এই আয়োজন সেই ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টুর্নামেন্টের অন্যতম ব্যতিক্রমী দিক ছিল পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ। বাংলাদেশ সরকারের সবুজায়ন কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার বার্তা ছড়িয়ে দিতে অংশগ্রহণকারী ১৬টি দলের সব খেলোয়াড়, কোচ ও টিম ম্যানেজারের হাতে উপহার হিসেবে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

May be an image of one or more people and text

ক্রীড়া আয়োজনের সঙ্গে বৃক্ষরোপণের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ যুক্ত করায় বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শুধু খেলাধুলায় উৎসাহিত করাই নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়েও সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে মাঠের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রকৃতি রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে আরও বর্ণিল করে তোলে পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির ওপর আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির খুদে শিল্পীরা পাহাড়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে নৃত্য পরিবেশন করেন। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে যোগ হয় ভিন্নমাত্রা।

আয়োজকদের মতে, পাহাড়ের তরুণদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মাদক, অপরাধ ও অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সৃজনশীল পরিবেশে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও ক্রীড়া আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

May be an image of temple

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন সময় ক্রীড়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। মহালছড়িতে আয়োজিত সম্প্রীতি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থা বৃদ্ধিতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের একই মাঠে একত্রিত করে প্রতিযোগিতা ও বন্ধুত্বের পরিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

May be an image of one or more people, people playing American football, people playing football and text

১৬টি দলের অংশগ্রহণে টুর্নামেন্ট ঘিরে মহালছড়ির ক্রীড়াঙ্গনে ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। খেলার মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এ আয়োজন।

আয়োজকরা আশা করছেন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো ইতিবাচক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এমন আয়োজন থেকে উঠে আসবে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়, যারা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *