নাফ নদী ও সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ইয়াবা-ইঞ্জিনসহ সোয়া কোটি টাকার মালামাল জব্দ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফ ও মহেশখালীতে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, পাঁচটি সিঙ্গেল সিলিন্ডার ইঞ্জিন ও ইঞ্জিনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এসব অভিযানে নাফ নদী ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচারের দুটি পৃথক প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্যমতে, দুটি অভিযানে জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। এর মধ্যে টেকনাফের নাফ নদী থেকে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস ইয়াবা এবং মহেশখালীর সমুদ্র এলাকা থেকে প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের পাঁচটি সিঙ্গেল সিলিন্ডার ইঞ্জিন ও ইঞ্জিনের অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে দুটি অভিযানের কোনোটিতেই পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়।
সোমবার বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ সদর উপজেলার নাজিরপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের একটি দল। অভিযান চলাকালে নদীতে সন্দেহজনকভাবে ভাসমান একটি সাদা প্যাকেট দেখতে পান কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
পরে প্যাকেটটি উদ্ধার করে তল্লাশি চালানো হলে দেখা যায়, জালের ফ্লোটিং বয়ের সঙ্গে অভিনব কৌশলে সেটি বাঁধা রয়েছে। প্যাকেটটি খুলে গণনা করে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের হিসাবে জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
কোস্ট গার্ডের প্রাথমিক ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে নাফ নদীপথে ইয়াবার চালান পাচারের উদ্দেশ্যে বিশেষ কৌশলে পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে অভিযান পরিচালনার সময় ঘটনাস্থলে পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি।

একই দিনে ভোররাত ৪টার দিকে মহেশখালীর ছেড়াদ্বীয়া দ্বীপসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড স্টেশন কক্সবাজার ও কোস্ট গার্ড স্টেশন মহেশখালীর যৌথ দল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বোটের ভেতর থেকে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা পাঁচটি সিঙ্গেল সিলিন্ডার ইঞ্জিন ও ইঞ্জিনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের হিসাবে এসব ইঞ্জিন ও সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।
অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বোটে থাকা পাচারকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ফলে এ ঘটনায়ও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে পাচারের কাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোটটি জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় জলসীমা ব্যবহার করে মাদক ও বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচারের চেষ্টা ঠেকাতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী টেকনাফের নাফ নদী এবং কক্সবাজারের উপকূলীয় জলসীমা মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির আওতায় রয়েছে।
একই দিনে পৃথক দুই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা ইঞ্জিন উদ্ধারের ঘটনায় সমুদ্র ও নদীপথে চোরাচালান ঠেকাতে কোস্ট গার্ডের তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নৌপথে পাচারকারীরা বিভিন্ন সময় পণ্য লুকিয়ে বা ভাসিয়ে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়ানোর চেষ্টা করে থাকে। এ ধরনের কৌশল শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হলে পাচার প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা ইয়াবা, ইঞ্জিন, অন্যান্য সরঞ্জাম ও পাচারে ব্যবহৃত ফিশিং বোটের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় মাদক, অবৈধ পণ্য পাচার এবং চোরাচালান বন্ধে ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নাফ নদী ও সমুদ্রপথে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সন্দেহজনক নৌযানে তল্লাশি জোরদার করা গেলে মাদক ও চোরাচালানের নেটওয়ার্কে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।