লংগদুতে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ এবং বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় লংগদু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের সুপার হাফেজ মাওলানা ফোরকান আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন। বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত খেলাধুলা শুধু শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা হলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি হয় এবং পরিশ্রম, নিয়ম-কানুন মেনে চলা ও পরাজয়কে মেনে নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে ওঠে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরিতে বিদ্যালয় পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকারিয়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহনেওয়াজ চৌধুরী, লংগদু প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. এখলাছ মিঞা খান, রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আল মামুন ইবনে মিজান এবং করল্যাছড়ি রশিদ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রতিযোগীদের অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের সুস্থ বিনোদন, মানসিক বিকাশ এবং ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ ধরনের প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য। বিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাদক ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে স্বাস্থ্যকর ও ইতিবাচক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত অতিথিরা। পুরস্কার হাতে পেয়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লংগদুর মতো পার্বত্য ও প্রত্যন্ত উপজেলায় বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায় থেকেই সম্ভাবনাময় ক্রীড়া প্রতিভা বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক দৃঢ়তা ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে এসব আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।