বাঘাইছড়িতে ২৭ বিজিবির অভিযানে প্রায় ১শ ঘনফুট অবৈধ কাঠ উদ্ধার
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১শ ঘনফুট অবৈধ কাঠ উদ্ধার করেছে মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি)। সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৬ দশমিক ৭৮ ঘনফুট সেগুন কাঠ ও ২১ দশমিক ৬১ ঘনফুট গামারী কাঠ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৫ টাকা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার মডেল টাউন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি আভিযানিক দল।
মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশক্রমে রিভারঘাট পোস্টের হাবিলদার সমরেন্দ্র সিংহের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মডেল টাউন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনকভাবে পড়ে থাকা মালিকবিহীন কাঠের সন্ধান পেয়ে সেগুলো জব্দ করা হয়।
অভিযানে সর্বমোট ৯৮ দশমিক ৩৯ ঘনফুট কাঠ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৭৬ দশমিক ৭৮ ঘনফুট সেগুন কাঠ এবং ২১ দশমিক ৬১ ঘনফুট গামারী কাঠ রয়েছে। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ঘনফুট ৪ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে উদ্ধার করা কাঠের আনুমানিক সিজার মূল্য ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৫ টাকা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবৈধভাবে কাঠ আহরণ, পরিবহন ও পাচার দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র বিভিন্ন কৌশলে বনজ সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। এ অবস্থায় সীমান্ত ও দুর্গম এলাকায় বিজিবির নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা অবৈধ কাঠ পরিবহন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মারিশ্যা জোনের (২৭ বিজিবি) জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, সীমান্ত ও জোন এলাকার বিভিন্ন স্থানে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সম্প্রতি চোরাকারবারীরা বিভিন্ন অভিনব কৌশলে অবৈধ পণ্য পরিবহনের চেষ্টা বাড়িয়েছে। এ কারণে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমন এবং অবৈধ চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে মারিশ্যা জোনের আভিযানিক টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জনস্বার্থে বিজিবির এ কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ কাঠ উদ্ধার শুধু চোরাচালান প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টিও সরাসরি জড়িত। নির্বিচারে বন উজাড় ও অবৈধভাবে মূল্যবান কাঠ আহরণ বন্ধ করা গেলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে অবৈধ কাঠের বাণিজ্য বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে চোরাকারবারীদের মধ্যে নিরুৎসাহ তৈরি হবে এবং সরকারি বনসম্পদ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার থাকলে অবৈধ কাঠ আহরণ ও পরিবহনের প্রবণতা আরও কমে আসবে।
উদ্ধার করা কাঠ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।