পাহাড়ে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি ওয়াদুদ ভূইয়ার

পাহাড়ে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি ওয়াদুদ ভূইয়ার

পাহাড়ে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি ওয়াদুদ ভূইয়ার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি এলাকায় একটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এ দাবি জানান।

সংসদে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, দুর্গমতা ও কৌশলগত গুরুত্বের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্গম ও দীর্ঘ সড়ক যোগাযোগের কারণে এ অঞ্চলে দ্রুত যাতায়াত এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অনেক সময় দীর্ঘ সড়কপথ পাড়ি দিতে হয়।

তিনি বলেন, সড়কপথে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কিংবা তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পার্বত্য অঞ্চলে একটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চলাচলের সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। একটি বিমানবন্দর থাকলে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ওয়াদুদ ভূইয়া আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তার পাশাপাশি উন্নয়ন ও পর্যটনের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গম যোগাযোগের কারণে অনেক সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াতে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে সাজেক ভ্যালিসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

তার মতে, দ্রুত ও সহজ আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, গাইডিংসহ বিভিন্ন সেবাখাতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি পার্বত্য অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি আকাশপথের যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন জরুরি সরকারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম দ্রুততর হবে, অন্যদিকে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এ কারণে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির উপযুক্ত কোনো এলাকায় একটি আধুনিক অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর স্থাপনের বিষয়ে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিমান যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হলে শুধু যাতায়াতের সময় কমবে না; দুর্গম জনগোষ্ঠীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগকালীন উদ্ধার তৎপরতা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও পর্যটন বিকাশেও এর বহুমুখী সুফল পাওয়া যেতে পারে। তবে এমন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব, ভূমি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *