ফেনী নদীর ভাঙনে রামগড়ে বাড়ছে ঝুঁকি, বিলীন হচ্ছে তীররক্ষা ব্লক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় পৌরসভার দারোগাপাড়া এলাকায় ফেনী নদীর তীব্র স্রোতে নদীতীর সংরক্ষণে নির্মিত কংক্রিটের ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একের পর এক ব্লক সরে যাওয়ায় নদীর পাড়ে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীর কাছাকাছি থাকা বসতবাড়ি, সড়ক ও সরকারি স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নদীর তীর সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় দীর্ঘদিনের পুরোনো প্রতিরোধব্যবস্থা এখন কার্যকারিতা হারাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ফেনী নদীর পানি ও স্রোত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও তীব্র হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রামগড় পৌরসভার দারোগাপাড়া, ফেনীরকুল, অফিসটিলা ও বল্টুরামটিলা এলাকার নদীতীরের বিভিন্ন স্থানে কংক্রিটের ব্লকের অংশ ধসে নদীতে পড়েছে। কোথাও কোথাও ব্লক সরে গিয়ে নদীর তীরের মাটি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে স্রোতের ধাক্কায় মাটি ধসে ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমানে ভাঙন নদীতীরবর্তী কয়েকটি বসতবাড়ি ও চলাচলের সড়কের কাছাকাছি চলে এসেছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বর্ষার বাকি সময়ে ভাঙন আরও তীব্র হয়ে বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দারোগাপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে ফেনী নদীর ভাঙন দিন দিন আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠার কথা উল্লেখ করে নদীতীরের সুরক্ষাব্যবস্থা দ্রুত সংস্কার এবং ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

স্থানীয়দের আবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ইউএনও। গত ১৯ আগস্ট দেওয়া চিঠিতে দারোগাপাড়া এলাকায় ফেনী নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা দিদার চৌধুরী বলেন, বর্ষা এলেই নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও বাড়তে থাকে। এবার নদীর তীরের প্রতিরোধব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরেক বাসিন্দা নাসির উদ্দীন রানা বলেন, যেভাবে নদীর তীর ভাঙছে, তাতে বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তবে নদীতীর সংরক্ষণে বড় ধরনের একটি প্রশাসনিক জটিলতার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেবাংশু চাকমা বলেন, ফেনী নদীটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্য রেখা দিয়ে প্রবাহিত। ফলে এখানে নদী সংরক্ষণ বা বড় ধরনের প্রতিরোধমূলক কাজ করতে হলে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্মতির প্রয়োজন হয়। এ কারণে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত নদী হওয়ায় স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা নির্মাণে প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা থাকলেও বর্তমান ঝুঁকি মোকাবিলায় অন্তত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনপ্রবণ অংশগুলো চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ নদীতীরের একটি অংশ ভেঙে গেলে পরবর্তী সময়ে স্রোতের চাপ সরাসরি তীরবর্তী মাটিতে পড়বে এবং ভাঙনের বিস্তার দ্রুত বাড়তে পারে।
তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ভাঙনের কারণ ও ঝুঁকি নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত তীররক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ফেনী নদীর তীর সংরক্ষণে টেকসই ও স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রামগড়ের দারোগাপাড়ায় ফেনী নদীর তীর রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শুধু কয়েকটি বসতবাড়ি নয়, স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা ও সরকারি স্থাপনাও ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।