রুমার দুর্গম পাহাড়ে মানুষের পাশে সেনাবাহিনী, শিক্ষা-সম্প্রীতি-উন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা রুমায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পরিবেশ সুদৃঢ় করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যতিক্রমী জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন। শিক্ষা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সুপেয় পানি ও স্থানীয় উন্নয়ন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রতি দেওয়া হয়েছে আর্থিক ও প্রয়োজনীয় সহায়তা।
রুমা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার-এর পক্ষ থেকে এসব সহায়তা প্রদান করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সেনাবাহিনীর জনসম্পৃক্ততা ও মানবিক কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে অনুপ্রেরণা জোগাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রুমা জোন। এর অংশ হিসেবে সৈকত পাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী রাব্বি বম এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৭৩ অর্জন করায় তাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভালো ফলাফল অর্জনকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের চার শিক্ষার্থীকে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ দেওয়া হয়। মুয়ালপি পাড়ার এক কৃতি ছাত্রকেও লেখাপড়ায় উৎসাহিত করতে দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা।
শুধু মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এ উদ্যোগ। শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করতেও সহযোগিতা করা হয়েছে। রুমা বাজারের জাবালুল কুরআন মাদরাসার ১৩০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পড়াশোনার সহায়ক হিসেবে ৩০০টি খাতা বিতরণ করা হয়েছে।
শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি জোরদারেও সহায়তা করেছে রুমা জোন। রুমা বাজারের শ্রী শ্রী হরি মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং রুমা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও সিরাত মাহফিল আয়োজনের জন্য আরও ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য এলাকার বৈচিত্র্যময় সামাজিক বাস্তবতায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্ক উন্নয়নেও এ ধরনের কার্যক্রম ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রুমার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা সুপেয় পানির সংকট। সেই সমস্যা মোকাবিলায়ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে রুমা জোন। বাজার পাড়া আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার লালঙাক পাড়ার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ২৩ হাজার ৫৭০ টাকা মূল্যের পানির সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া এলাকার বিভিন্ন পাড়ার সার্বিক উন্নয়ন ও স্থানীয় প্রয়োজন পূরণে আরও ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে যেখানে অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে এ ধরনের সহযোগিতা স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা রুমা জোনের এসব উদ্যোগে সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজন ও সংকটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সুপেয় পানি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে দেওয়া সহায়তা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহায়তা দেওয়ার ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
রুমা জোন অধিনায়ক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে রুমা জোন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থানীয় উন্নয়নে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রুমা জোনের সাম্প্রতিক কার্যক্রমও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
রুমা জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় ও বেগবান করতে স্থানীয় জনগণের পাশে থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।