দীঘিনালায় পাহাড়ি-বাঙালি ৩৬ শিক্ষার্থীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষে সনদ দিল সেনাবাহিনী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণদের কারিগরি দক্ষতা বাড়িয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় তিন সপ্তাহব্যাপী মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে পাহাড়ি-বাঙালি ৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দীঘিনালা সরকারি পলিটেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন-এর নির্দেশনায় এ কারিগরি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন মো. জাহিদ হাসান জয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।
এ সময় দীঘিনালা সরকারি পলিটেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কারিগরি শিক্ষক মো. রুবেল আহমেদ, দীঘিনালা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তিন সপ্তাহের এ প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজের বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হাতে-কলমে কারিগরি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের অনেক তরুণের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত। ফলে স্বল্পমেয়াদি বাস্তবমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল খাতের মতো ব্যবহারিক পেশায় দক্ষতা অর্জন করে প্রশিক্ষণার্থীরা ভবিষ্যতে চাকরির পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে ছোট পরিসরে ব্যবসা বা সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন মো. জাহিদ হাসান জয় বলেন, তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে এ ধরনের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যতে কর্মজীবনে কাজে লাগবে। তিনি জানান, স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সনদপত্র হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণ তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। তিন সপ্তাহের এ প্রশিক্ষণে তারা বাস্তব কাজের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে চাকরি বা নিজস্ব উদ্যোগে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
প্রশিক্ষণার্থীরা আরও বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তরুণদের জন্য এ ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ খুবই প্রয়োজন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন তাদের জন্য এমন একটি ব্যতিক্রমী ও বাস্তবমুখী কর্মসূচির আয়োজন করায় তারা কৃতজ্ঞ।

স্থানীয়দের মতে, শুধু নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে একদিকে যেমন পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ি-বাঙালি শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে প্রশিক্ষণের আওতায় এনে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে তরুণদের মেধা ও শ্রমকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎকে আরও সম্ভাবনাময় করে তুলতে পারে এ ধরনের উদ্যোগ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় দীঘিনালা জোনের এ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
সনদ বিতরণ শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজনের প্রত্যাশা জানান।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।