নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার অনুমোদন আটকে রেখেছে ভারত
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও তাকে অনুমোদন দেয়নি ভারত।
কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী, ভারতের সম্মতি ছাড়া নতুন হাইকমিশনার হিসেবে সিয়ামের আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করা সম্ভব নয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে এই অনুমোদনপ্রক্রিয়াটি আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তবে ভারত এ-সংক্রান্ত অনুমোদনপত্রটি ঝুলিয়ে রাখায় ঢাকা এখনই নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ করতে পারছে না।
কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রেরণকারী রাষ্ট্রকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, যে ব্যক্তিকে কোনো রাষ্ট্রে মিশনের প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তাব করছে, তার জন্য গ্রহণকারী রাষ্ট্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।‘
তবে এ ক্ষেত্রে গ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কনভেনশন অনুযায়ী কোনো প্রস্তাবিত নাম প্রত্যাখ্যানের কারণ জানাতে বাধ্য নয়। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হয়, যাতে প্রস্তাবিত নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করা হলে তা প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি না করে।
আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম জ্যেষ্ঠ পেশাদার কূটনীতিক। গত বছর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করে। পররাষ্ট্রসচিব হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘উনাকে (আসাদ আলম সিয়াম) সম্মতি না দেওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। উনি বাংলাদেশের অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য, সদালাপী, বিনয়ী একজন কর্মকর্তা। উনার বিরোধিতা করার কোনো কারণ দেখি না।’
আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে হাইকমিশনার করে পাঠানোর বিষয়টি আটকে থাকার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে এবং এসব জেরে গত আগস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরীয় বহু খাতভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমসটেক) সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সপ্তাহান্তে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি। ওই সম্মেলনে ঢাকা থেকে কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি, এমনকি ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার হামিদুল্লাহও শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে সাকিব আলী বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করেননি, এমনকি ব্রিকসেও যাননি, এসবের কারণে কি আসাদ আলম সিয়ামের প্রস্তাবটা আটকে দিয়েছে কি না, সেটাও দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ’আমি এটাকে কূটনৈতিক আচার পরিপন্থি বলব এবং দুই দেশের সম্পর্ক যে ভালো যাচ্ছে না, তার একটা নিদর্শন পাওয়া গেল।’
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।