সাজেকে কলেজ প্রতিষ্ঠার আড়ালে বন বিভাগের জমি দখলের পাঁয়তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইউপিডিএফের
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পাহাড়ে অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে রাখতে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক উপজাতিভিত্তিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সবসময়ই নানা ইস্যু খোঁজে। এবার তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ‘শিক্ষা’র মতো এক পবিত্র শব্দকে। সাজেকে ‘সাজেক কলেজ’ প্রতিষ্ঠার নামে সাধারণ পাহাড়িদের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলে একদিকে যেমন সরকারি বনাঞ্চল দখলের পাঁয়তারা চলছে, অন্যদিকে সেনাবাহিনীকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে নির্লজ্জ মিথ্যাচার। অথচ পর্দার পেছনের সত্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ইউপিডিএফ ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলো প্রচার করছে যে সেনাবাহিনী নাকি কলেজে বাধা দিচ্ছে। অথচ বন বিভাগের অফিশিয়াল চিঠিপত্র ও নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেনাবাহিনীর এখানে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততাই নেই। বাঘাইহাট রেঞ্জের স্মারক নং ১৬৭ (তারিখ: ১৮/০৫/২০২৫) এবং স্মারক নং ১৬৩ (তারিখ: ২৩/০৫/২০২৫) অনুযায়ী, বাঘাইহাট রেঞ্জের আওতাধীন মাখনাছড়ি বিটের ৮৪ নং কম্পার্টমেন্টের সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে বেআইনিভাবে এই অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছিল। কোনো সরকারি অনুমতি দেখাতে না পারায় বন বিভাগ স্বউদ্যোগে এটি অপসারণ ও স্থানটি দখলমুক্ত করার নোটিশ জারি করে। বিষয়টি পুরোপুরি আইনি ও জমি সংক্রান্ত, যেখানে সেনাসদস্যদের দূরতম কোনো ভূমিকা ছিল না।
গত ১০ আগস্ট বাঘাইহাট সেনা জোনের সদস্যরা যখন পাহাড়ে সাধারণ দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও মানবিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছিলেন, ঠিক তখন সরকারি সংরক্ষিত জমি পরিদর্শনে যায় বন বিভাগ ও পুলিশ।
সেদিনের উপস্থিত সব ভিডিও ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যায়, স্থানটিতে উপস্থিত ছিলেন কেবল পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা। অথচ ইউপিডিএফ তাদের পেইজ ও সোশ্যাল মিডিয়া সেল ব্যবহার করে রটিয়ে দিল যে সেনাবাহিনী ক্লাসে বাধা দিচ্ছে! সেনাবাহিনীর জনসেবামূলক কাজ থেকে চোখ অন্যদিকে ঘোরাতে এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই মিথ্যা নাটকটি সাজানো হয়।

আইন অমান্য করে জমি দখল ইউপিডিএফের নতুন কোনো কৌশল নয়। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর মাচালং একুইজ্জাছড়ি এলাকায় আদালতের আদেশ অমান্য করে তারা যখন বনের জমিতে বেআইনি স্থাপনা তুলতে যায়, তখন বন বিভাগ বাধা দেয়। প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বন কার্যালয়ে হামলা চালায়, সরকারি নথি লুট করে এবং এক বনরক্ষীকে গুরতর আহত করে অপহরণের চেষ্টা চালায়। সেদিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে না পৌঁছালে এক বনকর্মীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো না। আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করা এবং বন বিভাগের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানোই প্রমাণ করে যে ইউপিডিএফ কোনো অধিকার আদায়কারী দল নয়, বরং এটি একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠন।
ইউপিডিএফের আসল ধান্দা কী?
পাহাড়ে ইউপিডিএফের প্রধান ব্যবসা হলো চাঁদাবাজি, অপহরণ ও অস্ত্রবাজি। আর তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পথ রুখে দাঁড়ানোর একমাত্র প্রধান শক্তি হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাই সেনাবাহিনী যাতে পাহাড়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে না পারে, সেজন্য সাধারণ মানুষকে সেনাবিরোধী করে তোলার চক্রান্ত করে তারা। সাজেকে শিক্ষার প্রসারের চেয়ে বন বিভাগের জমি দখল করে নিজেদের সশস্ত্র ঘাঁটি বানানো এবং পার্বত্য চুক্তির শর্তকে বুড়ো আঙুল দেখানোই তাদের মূল লক্ষ্য।
দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। বনাঞ্চল ধ্বংস করে, সরকারি জমি দখল করে কিংবা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে না। ইউপিডিএফের মতো একটি সন্ত্রাসী সংগঠন যখন শিক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে নোংরা রাজনীতি ও মিথ্যাচার করে, তখন পাহাড়ের সচেতন জনগণকেই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইউপিডিএফের ছড়ানো সব গুজব বর্জন করে পাহাড়ের পরিবেশ ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সত্যকে ধারণ করাই এখন সময়ের দাবি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।