কাচিন সীমান্তে কেআইএ সদর দপ্তরের আকাশে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান, সতর্কতামূলক গুলি চীনের

কাচিন সীমান্তে কেআইএ সদর দপ্তরের আকাশে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান, সতর্কতামূলক গুলি চীনের

কাচিন সীমান্তে কেআইএ সদর দপ্তরের আকাশে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান, সতর্কতামূলক গুলি চীনের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যের চীন সীমান্তবর্তী লেইজা শহরে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মির (কেআইএ) সদর দপ্তরের আকাশে দেশটির সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান চক্কর দেওয়ার পর চীনের নিরাপত্তা বাহিনী সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কেআইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কাচিন রাজ্যের লেইজায় কেআইএর সদর দপ্তর চীন সীমান্তের কাছেই অবস্থিত। বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান এবং ওয়াই-১২ মডেলের উড়োজাহাজগুলো ওই এলাকার আকাশে চক্কর দেয়। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে কাচিন রাজ্যের বিরোধপূর্ণ ভামো এলাকায় সামরিক বাহিনীর কাছে রসদ পৌঁছে দিতে যাওয়া দুটি নৌবহরের প্রায় ২০টি নৌযান কেআইএ নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধ বাহিনী ধ্বংস বা ডুবিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কেআইএর মুখপাত্র কর্নেল নাও বু বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, মিয়ানমারের একটি সামরিক উড়োজাহাজ মিয়ানমার-চীন সীমান্ত বরাবর উড়ে লেইজার দিকে যাওয়ার সময় চীনের দিক থেকে কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন তিনি।

লেইজার বাসিন্দারাও দ্য ইরাবতীকে জানিয়েছেন, বুধবার থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো শহরটির আকাশে চক্কর দিচ্ছে। পরিস্থিতির কারণে সেখানে এক থেকে দুই সপ্তাহ ধরে স্কুলও বন্ধ রয়েছে বলে তারা জানান।

এদিকে কাচিন রাজ্যের সামরিক পরিস্থিতি এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য বিমান হামলার আশঙ্কায় কেআইএ ও তাদের মিত্র সংগঠনগুলো বুধবার থেকেই স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বড় ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলা, প্রতিটি বাড়িতে বোমা হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বা বাঙ্কার তৈরি করা, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াত না করা এবং বিমান হামলার সতর্কসংকেত পাওয়া গেলে দ্রুত একে অপরকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে।

তবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো লেইজার আকাশে চক্কর দিলেও শহরটিতে কোনো হামলা চালায়নি। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকটি যুদ্ধবিমান কাচিন রাজ্যের হপাকান্ত টাউনশিপে কেআইএর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বোমা ফেলেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে আগস্টের শেষভাগ ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ইরাবতী নদীপথে দুটি রসদবাহী নৌবহর পাঠায়। এসব নৌযানে ভামোতে অবস্থানরত সেনাদের জন্য খাদ্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অতিরিক্ত সেনাসদস্য পাঠানো হচ্ছিল।

নৌবহরগুলোকে নিরাপদে এগিয়ে নিতে নদীর দুই তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে নদীর তীর ধরে স্থল অভিযানও পরিচালনা করা হয়। এতে কেআইএ নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসব সংঘর্ষে প্রতিরোধ বাহিনী বার্জ, টাগবোট ও গানবোটসহ প্রায় ২০টি নৌযান ধ্বংস বা ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর প্রায় ২০০ সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেন বলেও জানানো হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed