জাপানে হঠাৎ মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
জাপানের ওকিনাওয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের জন্য সান্ধ্য আইন বা কারফিউ জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সেনাদের মদ্যপান নিষিদ্ধ এবং শৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী জাপানি নারী অ্যানা ইয়াগিকে হত্যার অভিযোগ ওঠে সেখানে দায়িত্ব পালনরত মার্কিন থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের এক সদস্যের বিরুদ্ধে। হত্যার পর ওই নারীর মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড নামে এক ল্যান্স কর্পোরালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পরই মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের কমান্ডিং জেনারেল বেনজামিন ওয়াটসন বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সেনাদের আচরণ তাদের প্রতি আস্থা তৈরি করতে পারে, আবার সেই আস্থাও নষ্ট করতে পারে। আস্থা নষ্ট হলে তা সামরিক জোটের শক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি জানান, সেনাসদস্যদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলাবিষয়ক কার্যক্রমের কারণে ওকিনাওয়ায় মার্কিন বাহিনীর সব সামরিক কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি হত্যাকাণ্ডটিকে ‘অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংস’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় মার্কিন সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাপানে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। দেশটিতে থাকা প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার বড় অংশই ওকিনাওয়ায় অবস্থান করছে।
দীর্ঘদিন ধরেই শব্দদূষণ, বিমান দুর্ঘটনা ও মার্কিন সেনাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে ওকিনাওয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের পর ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড নতুন করে সেই ক্ষোভ উসকে দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের ঘটনা জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।