রামগড়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ৩ প্লাটুন বিজিবি, পূজামণ্ডপে অনুদান দিলেন জোন অধিনায়ক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ির রামগড়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকার আটটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তা প্রস্তুতির পাশাপাশি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আয়োজক কমিটিকে আর্থিক অনুদান প্রদানের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী দক্ষিণেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য ও উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আয়োজক কমিটির হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।
পরিদর্শনকালে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও উপস্থিত ছিলেন। উৎসবের আগে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানকে স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে বিজিবির ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সময় ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রামগড় ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার আটটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার লক্ষ্যে তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে।

বিজিবি অধিনায়ক আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য তিনি সবাইকে গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে দ্রুত বিজিবি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।
সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পূজা আয়োজকদের পাশে দাঁড়ানো এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে রামগড় ব্যাটালিয়নের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।