৭২ ঘণ্টার মধ্যে পর্যটকদের জন্য সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি, লংমার্চের ঘোষণা
![]()
পানছড়ি ও সাজেকে জরুরি সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবি
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জনতার দল। সমাবেশ থেকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া, পানছড়ি ও সাজেকে জরুরি সেনাক্যাম্প স্থাপন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে সাজেক অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন দলটির নেতারা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান ফটকের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি তিন দফা দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে জনতার দলের চেয়ারম্যান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল, মুখপাত্র অবসরপ্রাপ্ত মেজর ডেল এইচ খান, সিনিয়র যুগ্ম চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাকির, অবসরপ্রাপ্ত মেজর ফেরদৌস, যুগ্ম মহাসচিব ফুয়াদ সাকী এবং পিএইচপি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক, শাহাদাত ফরাজী সাকিবসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি
সমাবেশে জনতার দলের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল বলেন, পাহাড়ে শান্তি বিনষ্টের প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা একত্র হয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শামীম কামাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর সমাধান প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি শক্তির ইন্ধনে পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এ অঞ্চলের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য একটি গণকমিশন গঠনেরও দাবি জানান তিনি।
‘দেশকে বিচ্ছিন্ন করার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়’
সমাবেশে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ফেরদৌস পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, পাহাড়ে সাধারণ মানুষের শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সুশীল সমাজের পরিচয়ে কিংবা সাংবাদিকতার মাধ্যমে যাঁরা দেশকে বিচ্ছিন্ন করার পক্ষে কথা বলেন বা লেখেন বলে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রতি আনুগত্য ও সম্মান থাকা প্রয়োজন। যাঁরা বাংলাদেশকে সম্মান করতে জানেন না, তাঁদের ভারত অথবা পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁরা দেশের জন্য হাসতে হাসতে মরতেও রাজি।
এ ছাড়া চলতি বছরের দুর্গাপূজার সময় ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সমালোচনা করেন ফেরদৌস। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঈদের সময় বাংলাদেশ বা সৌদি আরবের হাইকমিশনাররা ভারতে গিয়ে একইভাবে মসজিদ বা ঈদগাহ পরিদর্শন করেন কি না।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাজেক খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম
জনতার দলের মুখপাত্র অবসরপ্রাপ্ত মেজর ডেল এইচ খান সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সাজেকের পর্যটন খাতের অর্থ কেন ভারতে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভারতকে সতর্ক করে তিনি বলেন, পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
ডেল এইচ খান ঘোষণা দেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাজেক পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অন্যথায় সাজেক অভিমুখে লংমার্চ করা হবে। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি আবারও সাজেক খুলে দেওয়া এবং পানছড়ি ও সাজেকে জরুরি সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানান। এসব দাবি পূরণ না হলে লংমার্চের কর্মসূচি পালনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
পানছড়িতে জরুরি সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবি
সমাবেশে জনতার দলের সিনিয়র যুগ্ম চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাকির সরকারও সেনাবাহিনীর প্রতি পানছড়িতে জরুরি ভিত্তিতে সেনাক্যাম্প স্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সেখানে সেনাক্যাম্প স্থাপন ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না বলে তিনি মনে করেন।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার দাবি জানান জাকির। তাঁর বক্তব্য, সেনাসদস্যরা যাতে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য তাঁদের প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা দিতে হবে।
সাজেকে পর্যটকদের জিম্মির অভিযোগ
সমাবেশে বক্তব্য দেন সাকিব ফরাজী। তিনি অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সাজেকে ইউপিডিএফের সদস্যরা তিন হাজার পর্যটককে জিম্মি করে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেছিলেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের আর সুযোগ দেওয়া হবে না।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাকিব ফরাজী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব পালনের জন্য। তিনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান। বক্তব্যে তিনি অস্ত্রধারীদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য গুলি চালানোর কথাও বলেন।
সমাবেশের তিন দফা দাবি
সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
- পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হবে।
- সেনাসদস্যদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
- সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটনকেন্দ্রগুলো পর্যটকদের জন্য নিরাপদ করতে হবে।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ডেল এইচ খান পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাজেক পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা এবং পানছড়ি ও সাজেকে জরুরি সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সাজেক অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।