মিজোরামফেরত বম পরিবারসহ অসহায় মানুষের পাশে সেনাবাহিনীর রুমা জোন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন। ভারতের মিজোরাম থেকে নিজ এলাকায় ফিরে আসা বম পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন, দরিদ্র মানুষের আর্থিক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সহযোগিতা এবং অসহায় পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় পর্যায়ে এসব কার্যক্রমকে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ভারতের মিজোরাম থেকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার হ্যাপিহিল পাড়ায় দুটি পরিবারের ৯ জন, লাইরুনপি পাড়ায় একটি পরিবারের ৫ জন এবং মুন্নুয়াম পাড়ার দুটি পরিবারের ৩ জন সদস্য নিজ নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন। ফিরে আসা পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তার লক্ষ্যে রুমা জোনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, পেঁয়াজ, রান্নার সামগ্রী, সোলার সিস্টেম ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়েছে।
পুনর্বাসন সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবারগুলোর আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরিতেও উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী। মুন্নুয়াম পাড়ার লাল রুয়াদ্দান বম, এ্যালভেজ বম, ফ্লেক্স বম ও জেনিবিশ বমের মধ্যে মোট ১২টি ছাগল ও ১২টি টিন বিতরণ করা হয়েছে। এসব সহায়তা তাঁদের পারিবারিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে জীবিকা নির্বাহে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া মুনলাই পাড়ার জিং যোফ কিমকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও রুমা জোনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব উদযাপন উপলক্ষে মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং বড়ুয়া পাড়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে এ ধরনের সহযোগিতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সেনাবাহিনীর আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার প্রকাশ।
অসহায় পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগে। রুমারচর নিচের পাড়ার মৃত মংচাইসিং মার্মার দুই মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ছোট মেয়ে হ্লা খিং প্রু মার্মার পড়াশোনার ব্যয় বহনে সহায়তা এবং বড় মেয়ে মেসিংউ মার্মাকে দর্জি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অন্যদিকে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পথ উন্মুক্ত হবে।
সামগ্রিকভাবে, মিজোরামফেরত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, দরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, ধর্মীয় উৎসবে সহযোগিতা এবং শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বিতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোনের এসব কার্যক্রম বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানুষের প্রয়োজনের পাশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের সহায়তা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।