১৯ বছরের বন্দিত্বের অবসান: নিঃস্ব ময়নুলকে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

১৯ বছরের বন্দিত্বের অবসান: নিঃস্ব ময়নুলকে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

নীরব চোখে কান্না, বুকভরা হাহাকার, আর এক রাত পর আরেক রাত—সুদানের রণক্ষেত্রের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাটানো দীর্ঘ ১৯ বছর শেষে অবশেষে নিজের দেশের মাটিতে পা রাখলেন গাইবান্ধার মোঃ ময়নুল হক। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী—যারা শুধু অস্ত্র বহন করে না, বহন করে দেশের মানুষের প্রতি অগাধ মানবিক দায়িত্ববোধ।

২০২৫ সালের মে মাসে সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের (ব্যানব্যাট-৩) একটি টহলদল হঠাৎই আবিষ্কার করে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ, অসহায়, পরিচয়হীন অবস্থায় বসবাসরত এক বাংলাদেশীকে। তার নাম—মোঃ ময়নুল হক।

১৯ বছরের বন্দিত্বের অবসান: নিঃস্ব ময়নুলকে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

১৯ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে খার্তুমে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গৃহযুদ্ধে শহর বিপর্যস্ত হলে তিনি প্রাণ হাতে নিয়ে পালিয়ে যান। এ পালিয়ে যাওয়ার পথে হারান পাসপোর্টসহ সব নথিপত্র, বন্ধ হয়ে যায় ঘরে ফিরে আসার সব দরজা।

কিন্তু দেশের প্রতি বিশ্বাস এখনও নিভে যায়নি। একদিন অবশেষে মিললো দেশ থেকে আসা মানুষের স্পর্শ—সেনাবাহিনীকে দেখে তিনি ভেঙে পড়েন কান্নায়। জানান— “একবার আমাকে দেশে ফিরতে সাহায্য করুন, আর কিছু চাই না।”

১৯ বছরের বন্দিত্বের অবসান: নিঃস্ব ময়নুলকে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

যেখানে রাষ্ট্র, সেখানেই সেনাবাহিনী—মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন সদস্যরা ময়নুলের পরিবার খুঁজে বের করেন, পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং দেশে ফেরার সব প্রক্রিয়া আয়োজন করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাস (ইথিওপিয়া) দ্রুত ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে এবং তার আর্থিক অসুবিধা বিবেচনায় বিমান ভাড়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।

সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আবেই → জুবা → আদ্দিস আবাবা → ঢাকা এই দীর্ঘ প্রত্যাবর্তনের পথ সম্পন্ন করার পর আজ তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

১৯ বছরের বন্দিত্বের অবসান: নিঃস্ব ময়নুলকে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

পরিবারের সাথে দেখা হতেই তার প্রথম কথা— “আমি ভেবেছিলাম দেশ আমাকে ভুলে গেছে। কিন্তু দেশ আমাকে ভুলে যায়নি—সেনাবাহিনীই আমাকে ফিরিয়ে এনেছে।”

সেনাবাহিনীর সদস্যরা বলেন— “আমরা শুধু দেশের সীমানা রক্ষা করি না, দেশের প্রতিটি মানুষের সাথেও আমাদের সম্পর্ক—রক্তের, দায়িত্বের, এবং মানবতার।”

১৯ বছরের বন্দিত্বের অবসান: নিঃস্ব ময়নুলকে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

এই ঘটনায় আবার প্রমাণ হলো: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু সীমান্ত ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাহিনী নয়, মানবিক সংকটে রাষ্ট্র ও মানুষের শেষ ভরসা, মাতৃভূমিতে একজন মানুষের ফিরে আসাতেও তারা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে শুধু শান্তি প্রতিষ্ঠায় নয়, মানবিক সহযোগিতায়ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে আটকে পড়া একজন নাগরিককে ১৯ বছর পর ফিরিয়ে আনা—তাদের সেই মানবিক সেবার উজ্জ্বল ও অনন্য উদাহরণ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।