শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াল সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস
![]()
নিউজ ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। তফসিল ঘোষণার পর রাঙামাটি ও বান্দরবান আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে নির্বাচন থেকে সরে থাকার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সংগঠনটির প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের সম্পাদক সজীব চাকমা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বশেষ সভায় প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আপাতত জেএসএস কোনো সংসদীয় আসনে অংশগ্রহণ করবে না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির তিনটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সংগঠনের ভেতরে আগ্রহ থাকলেও শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে দ্বিধা ছিল। নির্বাচন নিয়ে কর্মী ও সমর্থকদের মতামত পরোক্ষভাবে নেওয়া হলে অধিকাংশই প্রার্থী না দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাঁদের মতে, নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের অতীত নির্বাচনী অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এনে কর্মী ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সমতলের মতো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ এখানে নিশ্চিত করা কঠিন। এসব মতামতের আলোকে কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছান বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
নির্বাচনে কোনো দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জেএসএস সমর্থন দেবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সজীব চাকমা বলেন, এ নিয়ে এখনো দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ভবিষ্যতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাঙামাটিতে আয়োজিত এক সমাবেশে জেএসএসের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। ওই ঘোষণার পর থেকেই বান্দরবান আসনে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক কে এস মং মারমা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার–প্রচারণা চালান। একই সময়ে রাঙামাটি আসনেও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদারের পক্ষে ভেতরে–ভেতরে তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। তবে খাগড়াছড়ি আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই দলটির অবস্থান স্পষ্ট ছিল না।
প্রসঙ্গত, জেএসএসের এই সিদ্ধান্ত পার্বত্য অঞ্চলের নির্বাচনী রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।