দুর্গম সীমান্ত পাহাড়ে শিক্ষার আলো, বিজিবির সহায়তায় পুনর্জীবন পেল আরান্দিছড়ার বিদ্যালয়
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি জনপদ আরান্দিছড়ায় শিক্ষার একমাত্র আশ্রয় দজর আদাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। ভাঙাচোরা শ্রেণিকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছিল। এমন বাস্তবতায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গত মঙ্গলবার বিজিবির বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি) বিদ্যালয়টির অবকাঠামো উন্নয়নে ঢেউটিন, প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী, শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সামগ্রী সরবরাহ করে। এসব উপকরণ ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের জীর্ণ ভবনটি মেরামত করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পাঠদানের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বাবুছড়া ৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসতিয়াক আহাম্মদ ইবনে রিয়াজ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের হাতে সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিউটন চাকমা ও জোনাকি চাকমা জানান, এর আগে বাঁশের বেড়া ও কাঠের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যালয় ভবনটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শ্রেণিকক্ষের উপযোগী পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিজিবির সহযোগিতায় সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছে।

একই দিনে সীমান্তবর্তী এই এলাকায় বিজিবির উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় শিশুদের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা বিষয়ে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বাড়াতে আয়োজন করা হয় জনসচেতনতামূলক সেমিনারেরও।
এ বিষয়ে বাবুছড়া ৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসতিয়াক আহাম্মদ ইবনে রিয়াজ বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিজিবি নিয়মিত মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিজিবির এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করেই নয়, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাহিনীর পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করছে। প্রসঙ্গত, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির ধারাবাহিক মানবিক ভূমিকা পাহাড়ি অঞ্চলে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।