মণিপুরে বড় ধরনের যৌথ অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী, পাহাড়ি জঙ্গলে তল্লাশি জোরদার
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলার দুর্গম অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলার হেংলেপ এলাকায় এই অভিযান শুরু করা হয়।
চুরাচাঁদপুর জেলার পাহাড়ঘেরা ও ঘন অরণ্য অধ্যুষিত হেংলেপ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। অভিযানে প্যারা স্পেশাল ফোর্সেস ও আসাম রাইফেলসের বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা অংশ নেন। হেলিকপ্টারের সহায়তায় সেনা সদস্যদের গভীর জঙ্গলে নামিয়ে দুর্গম এলাকাজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতরে থাকা সন্দেহভাজন ট্রানজিট ক্যাম্প ও গোপন আস্তানা শনাক্ত ও ধ্বংস করা। যদিও কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, চুরাচাঁদপুর ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (ইউকেএনএ)-সহ একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। উল্লেখ্য, ইউকেএনএ ‘সাসপেনশন অব অপারেশনস’ চুক্তির স্বাক্ষরকারী নয়।
অভিযান চলাকালে অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার বা কোনো ধরনের সংঘর্ষের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযান শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে ইম্ফল উপত্যকাভিত্তিক মেইতেই গোষ্ঠী ও পাহাড়ি কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সহিংসতার পর থেকেই মণিপুর অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬০ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। এর পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংবেদনশীল জেলাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।