জনবল ও হোস্টেল সংকটে কার্যত অচল খাগড়াছড়ি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মমুখী দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের শালবন এলাকায় প্রায় দুই একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত খাগড়াছড়ি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট আজ চরম সংকটে পড়েছে। ২০০১ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে বস্ত্র অধিদফতরের আওতায় যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করলেও বর্তমানে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী সংকটসহ নানা সমস্যায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধের পথে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক সময় ইনস্টিটিউটটির একাডেমিক ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ছিল বেশ সক্রিয়। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বহু শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে এখানে ডাইং, অ্যাপারেল, নিটিং ও উইভিং—এই চারটি ট্রেড চালু রয়েছে। চারটি ট্রেডে মোট আসন সংখ্যা ১২০ জন হলেও নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছেন মাত্র ৪৫ জন।
শিক্ষক সংকটের চিত্রও উদ্বেগজনক। জনবল কাঠামো অনুযায়ী যেখানে ৯ জন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। একইভাবে ৫ জন অফিস স্টাফের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২ জন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ায় ইনস্টিটিউটের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হোস্টেল ব্যবস্থা না থাকায় খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে পারছেন না। অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় আশপাশের এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ফলে অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মিনুপ্রু মারমা বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ছাত্রাবাস না থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। তিনি জানান, বর্তমানে যারা অধ্যয়নরত আছেন, তাদের অনেকেই ভালো ফলাফল করছেন এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে উদ্যোক্তা বা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
খাগড়াছড়ি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, দেশের অনেক টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে আবাসিক হোস্টেল না থাকলেও পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানকার বাস্তবতা ভিন্ন। এ কারণে আবাসিক হোস্টেল নির্মাণ, শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট নিরসনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
খুব দ্রুত আবাসিক হোস্টেল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।