সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচি ঘোষণা সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের
![]()
নিউজ ডেস্ক
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সংরক্ষণ এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহতের লক্ষ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
আজ শনিবার খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, আপস কিংবা নীরবতা আর মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি চিহ্নিত দেশবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, উসকানি ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আসছে, যা সরাসরি বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। এই বাস্তবতা অস্বীকারের চেষ্টা করলে তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনগত পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিদেশি স্বার্থ রক্ষার নামে যারা দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের উদ্দেশে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের অবস্থান স্পষ্ট—রাষ্ট্রবিরোধী রাজনীতির জন্য এই মাটিতে কোনো জায়গা নেই।
এ প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশবিরোধী অপতৎপরতা প্রতিহতের লক্ষ্যে সচেতনতা বার্তাসম্পন্ন লিফলেট বিতরণ এবং পথসভা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানান পাইশিখই মারমা। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিরোধ। জনগণকে সম্পৃক্ত করে পাড়া-মহল্লা ও গ্রাম পর্যায়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতিও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে যদি গড়িমসি করা হয়, তাহলে জনগণ নিজেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্র রক্ষা করা, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে রক্ষা করা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অপরদিকে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াইচিং মং চাক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ হলেও বাস্তবে অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত অবহেলা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের মতো মৌলিক অধিকার থেকে পার্বত্যবাসীকে বঞ্চিত রেখে জাতীয় অগ্রগতি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা খাতের অবস্থা উদ্বেগজনক। পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগ্য শিক্ষক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার অভাবে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবকাঠামোগতভাবে জরাজীর্ণ এবং কোথাও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলমান, যার ফলে একটি প্রজন্মকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের চিত্র আরও করুণ উল্লেখ করে থোয়াইচিং মং চাক বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় মানসম্মত হাসপাতাল, চিকিৎসক, নার্স ও ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে। সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্যও মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অকাল মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে, যা একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।
উন্নয়নের নামে পরিকল্পনাহীন প্রকল্প, স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব ও স্থানীয় জনগণকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই ধরনের উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক দয়ার বিষয় নয়; এগুলো পার্বত্যবাসীর সাংবিধানিক অধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দক্ষ ও স্থায়ী জনবল নিয়োগ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় এই বৈষম্য ও অবহেলার দায় রাষ্ট্রকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দৈনিক পার্বত্যকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন, বান্দরবান জেলা কমিটির জিরা বাবু তঞ্চগ্যা, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির ইসমাইল হোসেন, সমাজকর্মী মোকতার হেসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামে সার্বভৌমত্ব, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির প্রশ্নে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি ও বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক জোরালো হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।