নির্বাচনে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবির একক দায়িত্ব, প্রস্তুত দায়িত্ব পালনে
![]()
নিউজ ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। নির্বাচন উপলক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কক্সবাজার সফর শেষে গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে স্থানীয় সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিজিবিসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয়, দায়িত্ব বণ্টন এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ রেখে সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবেও দায়িত্বে থাকবে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বিশেষ ব্রিফিং, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা ও আচরণবিধি প্রদান করা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় STX অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্র, ব্যালট, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF), র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT), বিশেষায়িত K-9 ডগ স্কোয়াড, ড্রোন ও বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কক্সবাজারের গুরুত্ব তুলে ধরে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন এলাকা এবং মায়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা উপস্থিতিজনিত সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সংবিধান ও আইনের আলোকে অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করে যাবে।
প্রসঙ্গত, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাচনি দায়িত্বে বিজিবির একক ও সমন্বিত ভূমিকা নির্বাচনকে শঙ্কামুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।