বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের কাছে মার্কিন অস্ত্র আছে: পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী
![]()
নিউজ ডেস্ক
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক হামলায় জড়িত বালুচ বিদ্রোহীদের কাছে উন্নতমানের মার্কিন অস্ত্র রয়েছে-যার মধ্যে নাইট ভিশন ডিভাইস ও অত্যাধুনিক রাইফেল রয়েছে, যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছেও নেই।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জাতীয় পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাজা আসিফ বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী এসব বিদ্রোহীর তথাকথিত নেতৃত্ব আফগানিস্তানে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকেই তারা সমর্থন পাচ্ছে। আফগানিস্তান বেলুচিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেয়।
তিনি জানান, বেলুচিস্তানের বিশাল ভৌগোলিক আয়তন এবং বিদ্রোহীদের ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তির কারণে নিরাপত্তা বাহিনী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
খাজা আসিফ বলেন, তাদের কাছে দুই কোটি রুপি মূল্যের একটি রাইফেল ছিল-যা আমাদের কাছেও নেই। এছাড়া চার থেকে পাঁচ হাজার ডলার দামের থার্মাল অস্ত্রদৃষ্টিও (থার্মাল সাইট) তাদের ছিল। মোট সামরিক সরঞ্জামের মূল্য প্রায় ২০ হাজার ডলার। এই অর্থ কোথা থেকে আসছে? কে এর জোগান দিচ্ছে?
তিনি দাবি করেন, বিদ্রোহীদের ব্যবহৃত রাইফেল ও নাইট ভিশন ডিভাইসগুলো আমেরিকান অস্ত্র। সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব আফগানিস্তানে অবস্থান করছে এবং তারা সেখান থেকেই সহায়তা পাচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)–এর নেতৃত্বে পরিচালিত এসব বিদ্রোহী মূলত পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানিদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএলএর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
খাজা আসিফের দাবি, বিএলএ মূলত চোরাচালানে জড়িত অপরাধীদের একটি সামরিক শাখা। তিনি বলেন, তারা পৃথিবীতে ফাসাদ-উল-আরদে লিপ্ত। তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা সম্ভব নয়।
এদিকে, বেলুচিস্তানে সপ্তাহান্তে শুরু হওয়া হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র। এতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৫০ জন।
সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় ছিটফোঁটা লড়াই চলছে। সাম্প্রতিক সমন্বিত হামলায় বন্দুকধারীরা ব্যাংক, কারাগার, পুলিশ স্টেশন ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
দশকের পর দশক ধরে বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহের মুখে রয়েছে পাকিস্তান। খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই প্রদেশটি আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্তঘেঁষা। নিরাপত্তা বাহিনী, বিদেশি নাগরিক ও অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানিদের ওপর নিয়মিত হামলা চালানো হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে সমন্বিত হামলায় অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক ও ২২ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।
প্রদেশটির সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন এই গোষ্ঠীটি সামরিক স্থাপনা, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বন্দুক হামলা ও আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, এসব হামলা এমন এক সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার কিছু অংশকে ‘লেভেল ৪: ডু নট ট্রাভেল’—অর্থাৎ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা ভ্রমণ নিষিদ্ধ এলাকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএলএ অন্যান্য প্রদেশ থেকে আসা পাকিস্তানি শ্রমিক ও বিদেশি জ্বালানি কোম্পানির ওপর হামলা জোরদার করেছে। গত বছর সংগঠনটি ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালায়, যা টানা দুই দিন ধরে চলা ভয়াবহ অবরোধে রূপ নেয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।