অবশেষে খাগড়াছড়িতে ধর্ম জ্যোতি, রাঙামাটিতে পহেল চাকমা বাগিয়ে নিলেন ইউপিডিএফের সমর্থন

অবশেষে খাগড়াছড়িতে ধর্ম জ্যোতি, রাঙামাটিতে পহেল চাকমা বাগিয়ে নিলেন ইউপিডিএফের সমর্থন

অবশেষে খাগড়াছড়িতে ধর্ম জ্যোতি, রাঙামাটিতে পহেল চাকমা বাগিয়ে নিলেন ইউপিডিএফের সমর্থন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

নানা জল্পনা-কল্পনার পর খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রকাশ্য সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। খাগড়াছড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা এবং রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে ভোট দেওয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের সহ-সভাপতি নূতন কুমার চাকমা এ আহ্বান জানান।

এর আগে, একদিন আগে প্রকাশিত একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারকে ‘মনভোলানো চটকদার বুলির সমাহার’ আখ্যায়িত করে ইউপিডিএফ দাবি করে, এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মৌলিক দাবি ও দীর্ঘদিনের সমস্যার কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই।

বিবৃতিতে নূতন কুমার চাকমা বলেন, বিএনপির ইশতেহারে তথাকথিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা আসলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে জাতিসত্তাগত বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করার প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে বাঙালি ভিন্ন অন্যান্য জাতিসত্তার স্বীকৃতি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নাগরিক হিসেবে সবাই সমান হলেও জাতিসত্তা হিসেবে বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, মনিপুরী, সাঁওতালসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতিকে ‘অন্তসারশূন্য’ আখ্যায়িত করে ইউপিডিএফ নেতা বলেন, সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান, স্বায়ত্তশাসন, ভূমি অধিকার, বেসামরিকীকরণ, গণতন্ত্রায়ন, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ কিংবা জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে গুইমারা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালায় সংঘটিত ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার নিয়েও কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘টেকসই শান্তি’ প্রতিষ্ঠার যে অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা মূল সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ারই নামান্তর। একই সঙ্গে ‘নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদপ্তর’ ও বেসরকারি উদ্যোগে ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন’ গঠনের প্রস্তাবকে চটকদার উন্নয়ন ভাবনা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা অর্থনৈতিক অনুন্নয়ন নয়; বরং উন্নয়নকে এখানে অধিকারহীন জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, অতীতে তথাকথিত পর্যটন প্রকল্পের নামে যেভাবে নিরীহ গ্রামবাসী উচ্ছেদ ও ভূমি বেদখল হয়েছে, ভবিষ্যতে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন বাস্তবায়িত হলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আরও বড় পরিসরে ঘটতে পারে।

সবশেষে ইউপিডিএফ এই ইশতেহারকে প্রত্যাখ্যান করে তিন পার্বত্য জেলার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানায়, যাতে তারা রাজনৈতিক দলীয় প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করে খাগড়াছড়িতে ধর্ম জ্যোতি চাকমা ও রাঙামাটিতে পহেল চাকমার পক্ষে ভোট দেন।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রকাশ্য সমর্থন ও অবস্থান ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতিকে আরও স্পষ্ট মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed