দুর্যোগ মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি: আধুনিক সরঞ্জাম হস্তান্তর
![]()
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এই বাস্তবতায় দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী, সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। দেশে ও দেশের বাইরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মোকাবিলায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্ব, দূরদর্শিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি সফল ও কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন জরুরি অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠন—প্রতিটি পর্যায়ে সমন্বিত ও সুসংগঠিত পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করেছে।
সম্প্রতি সংঘটিত ফেনীর বন্যা, মাইলস্টোন স্কুলে অগ্নিনির্বাপনসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

দুর্যোগ মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডে একটি আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মাননীয় উপদেষ্টা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জনাব ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক; সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, বিএসপি, এনডিসি, এইচডিএমসি, পিএসসি, পিএইচডি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ‘ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ক্রয়কৃত দুর্যোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির সরঞ্জাম সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।

হস্তান্তরকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ২০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি ডোজার, ৪৮ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি হেভি ডোজার এবং ১৫ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি ফর্কলিফট, যা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীতে সংযোজিত হলো।
এর আগে বিভিন্ন পর্যায়েও দুর্যোগ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ভারী ও হালকা যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করা হয়েছিল। নতুন সংযোজিত এসব সরঞ্জাম দুর্যোগকালে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, ভূমিধস ও আবর্জনা পরিষ্কার, জরুরি যান চলাচলের জন্য রাস্তা উন্মুক্তকরণ এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও অপারেশন এলাকা প্রস্তুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি দুর্যোগ-সহনশীল, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।