মায়ানমার জান্তার সাথে একের পর এক শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করছে কেআইএ

মায়ানমার জান্তার সাথে একের পর এক শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করছে কেআইএ

মায়ানমার জান্তার সাথে একের পর এক শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করছে কেআইএ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স অর্গানাইজেশন/আর্মি (কেআইও/কেআইএ) জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি)সহ অন্যান্য বিপ্লবী গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত না করলে তারা জান্তা সরকারের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংলাপে বসবে না।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে কাচিন বিপ্লবের ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স কাউন্সিলের (কেআইসি) সহ-সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুন মাও। কেআইসি হলো কেআইওর প্রশাসনিক শাখা, যা কেআইএ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তদারকি করে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে কেআইও/কেআইএ এনইউজির পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ), চিন রাজ্যের সশস্ত্র ইউনিট এবং অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে উত্তর শান, কাচিন ও চিন রাজ্য এবং সাগাইং অঞ্চলে জান্তা বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে।

গুন মাও বলেন, “ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সংহতি থেকে আমাদের জাতীয় ঐক্যের দিকে এগোতে হবে। আমাদের নীতি হলো সব বিপ্লবী শক্তির সঙ্গে একযোগে কাজ করা।”

তিনি জানান, কেআইও সরাসরি জান্তা সরকারকে জানিয়েছে যে, শুধু কেআইওর সঙ্গে আলোচনা করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় এবং এনইউজির সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত কিনা—সে প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

“আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছি যে, আলাদা আলাদা গোষ্ঠীর সঙ্গে পৃথক সংলাপের প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করবো না,” বলেন তিনি।

গুন মাও আরও জানান, কাচিন রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের দায়িত্ব কেআইওর ওপর রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী সাগাইং অঞ্চলে তারা একটি সামরিক এলাকা খুলেছে, যেখানে পিডিএফ সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে লড়াই চলছে।

মায়ানমার জান্তার সাথে একের পর এক শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করছে কেআইএ

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাচিন রাজ্যে প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত উত্তর সাগাইংয়ের কাওলিন, কান্টবালু ও কাথা টাউনশিপ স্থিতিশীল করা তাদের লক্ষ্য। এরপর অঞ্চলটির দক্ষিণাংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে চিন রাজ্যে কেআইএ নেতারা স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো রাজ্য ‘মুক্ত’ করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। যদিও অধিকাংশ এলাকা বর্তমানে প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, চার মাস আগে প্রায় এক হাজার সেনা নিয়ে জান্তা বাহিনী পুনর্দখলের অভিযান শুরু করে। চিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কালেই-ফালাম সড়ক এলাকায় সংঘর্ষে প্রায় ২০০ জন জান্তা সেনা নিহত হয়েছে।

কাচিন রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গুন মাও বলেন, মিতচিনা বিমানঘাঁটিতে একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভামো শহর দখলের চলমান যুদ্ধে জান্তা বাহিনীর সপ্তম ট্যাংকটি অচল করা হয়েছে। কাচিনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ভামো দখলে কেআইএর সঙ্গে বিভিন্ন জাতিগত প্রতিরোধ গোষ্ঠীও লড়াই করছে।

তিনি বলেন, “ভামোর যুদ্ধ রাজনৈতিক মর্যাদার লড়াই। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা কঠিন সংগ্রামে রয়েছি। সময় ও সম্পদ লাগবে জানি, তবুও এটি প্রয়োজনীয় বলেই আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”

সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে কেআইএ এনইউজির পিডিএফের জন্য কয়েক হাজার জান্তা-বিরোধী কর্মীকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed