ম্যান্ডালয়ে রকেট হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং

ম্যান্ডালয়ে রকেট হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং

ম্যান্ডালয়ে রকেট হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং গত মাসে ম্যান্ডালয়ে একটি তাৎক্ষণিক রকেট হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বলে সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম।

নেপিদো-ভিত্তিক সূত্রগুলো জানায়, ২৭ জানুয়ারি ভোরে ম্যান্ডালে প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ড (সিএমসি) কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার আগের রাতে মিন অং হ্লাইং সেখানে অবস্থান করছিলেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ ‘যাদয়া’ (অপয়া বা অমঙ্গল এড়ানোর উদ্দেশ্যে পালিত আচার) সম্পাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

সূত্র অনুযায়ী, তিনি বার্মিজ রাজকীয় পোশাক পরে ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে—যা শুভক্ষণ হিসেবে বিবেচিত—মিংলার সেতু হয়ে প্রাসাদে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিলেন। চলমান গৃহযুদ্ধ ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নিজের জন্য সৌভাগ্য কামনায় এ আচার পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক জান্তা-আয়োজিত নির্বাচনে সামরিক সমর্থিত দল জয়ী হওয়ায় মিন অং হ্লাইং দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে বসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে রকেটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় বলে দাবি করেছে সূত্রগুলো। তাদের ভাষ্য, “তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপে ছিলেন এবং প্রায় এক সপ্তাহ জনসমক্ষে আসেননি।”

‘ব্রেভ ওয়ারিয়র্স ফর মিয়ানমার’ (বিডব্লিউএম) নামে একটি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে। ২৭ জানুয়ারি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানায়, সেদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ১০৭ মিলিমিটার ক্যালিবারের তাৎক্ষণিক রকেট ছোড়া হয়। তাদের দাবি, তিনটি রকেট বিস্ফোরিত হয়েছে এবং কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। মিন অং হ্লাইং আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন কিনা সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নয় বলেও জানায় গোষ্ঠীটি।

হামলার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মিন অং হ্লাইং প্রায় এক সপ্তাহ জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকেন। এতে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা ছড়ায়। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শইগুর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি আবার প্রকাশ্যে আসেন। দুই দিন পর ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিও গ্রহণ করেন।

কুসংস্কারে আচ্ছন্ন সামরিক নেতৃত্ব

মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই জ্যোতিষশাস্ত্র, তন্ত্র-মন্ত্র, সংখ্যাতত্ত্ব ও ‘যাদয়া’র মতো আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি ঝোঁকের জন্য পরিচিত। মিন অং হ্লাইংও এর ব্যতিক্রম নন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তার দীর্ঘদিনের বলে জানা যায়। ২০২০ সালের নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তিনি বাগানের প্রাচীন হ্তিলোমিনলো মন্দিরে ‘হতি’ ছাতা স্থাপন করেন। এটি করেছিলেন ভাসিপাকে সায়াদাও নামে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর পরামর্শে, যিনি নীরবতা পালনের জন্য পরিচিত এবং মিন অং হ্লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ ধরনের দান-ধ্যান শাসকদের জন্য ঐশ্বরিক আশীর্বাদ ও দীর্ঘ শাসন নিশ্চিত করে। মিন অং হ্লাইং পূর্ব শান রাজ্যের কেংতুং এলাকায় ওই ভিক্ষুর মন্দিরেও নিয়মিত যাতায়াত করেন বলে জানা গেছে।

ভাসিপাকে সায়াদাওকে জান্তা প্রধানের জ্যোতিষ পরামর্শক হিসেবেও মনে করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে মাথায় গুলি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা ‘যাদয়া’র অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed