বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অভিযান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অভিযান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অভিযান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বান্দরবান পার্বত্য জেলার থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বাকলাই পাড়া সাব জোন থেকে অভিযানটি শুরু হয়। পরদিন অর্থাৎ আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অভিযানে অংশ নেওয়া দলটি দুর্গম পাহাড়ি খাদে কেএনএ সদস্যদের একটি গুপ্ত আস্তানা শনাক্ত করে তা ধ্বংস করে।

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অভিযান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস

অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি, স্থানীয় পাড়া থেকে সংগ্রহ করা খাদ্যরসদসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে কেএনএ সশস্ত্র সদস্যদের কর্মকাণ্ড তথা অত্যাচার এবং নিপিড়নের শিকার হয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার বাকলাই পাড়া, প্রাতা পাড়া, থান্দুই পাড়া, শেরকর পাড়া, তামলো পাড়া, পাইনুয়াম পাড়া, সিলোপি পাড়া ও থিনদোলতে ত্লাংসহ আরও কয়েকটি গ্রাম আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে জনশূন্য হয়ে পড়ে।

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অভিযান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস

অভিযোগ রয়েছে, সশস্ত্র সদস্যরা প্রতিনিয়ত জোরপূর্বক স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের খাদ্যরশদ ছিনিয়ে নেয়া হয়ে উঠেছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

সন্ত্রাসীরা এখানেই থেমে থাকেনি, অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে পাহাড়ের গ্রামগুলোতে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ, বিনা পারিশ্রমিকে জোরপূর্বক নানান কাজ করানো ছাড়াও শিশুকিশোরদের স্কুলে যাওয়া ব্যহত করে তাদের ঝুকিপূর্ন জীবনযাপনে বাধ্য করত।

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অভিযান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস

তবে, ২০২৪ সাল থেকে সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় গ্রামছাড়া পরিবারগুলো ধীরে ধীরে নিজ নিজ গ্রামে ফিরে আসতে শুরু করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও বান্দরবান রিজিয়নের উদ্যোগে বাকলাই পাড়া সেনা সাব-জোনের আওতাধীন প্রাতা পাড়া, বাকলাই পাড়া, থান্দুই পাড়া, শেরকর পাড়া ও সিমত্লাংপি পাড়ায় পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়। ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাকলাই সেনা সাব-জোন এলাকায় মোট ২৯টি পরিবার পুনরায় বসবাস শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাকলাই সেনা সাব জোনে মোট ২৯ টি পরিবার ফিরে আসে। সেনাবাহিনীর অবদানে প্রতিটি গ্রাম যখন গড়ে উঠা আরম্ভ করেছে, শুরু করেছে শান্তিতে বসবাস, ঠিক তখনি পুনরায় সাধারন মানুষের দুশ্চিন্তার কারন হয়ে উঠছে কেএনএ সশস্ত্র সন্ত্রাসগোষ্ঠী।

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অভিযান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস

থানচি উপজেলাস্হ প্রাতাপারা হতে কেএনএ সন্ত্রাসীগন জোর পূর্বক চাঁদা আদায় ছাড়াও নিয়মিত তাদের জুম চাষের ফসল নিয়ে যাওয়া, অস্ত্রের মাধ্যমে হূমকি প্রদানসহ নানানভাবে হেনস্হা ও শিশু-কিশোরদের জোরপূর্বক রশদ বহনে বাধ্য করছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, থানচি উপজেলার প্রাতা পাড়া এলাকায় কেএনএ সদস্যরা ফের জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, জুম চাষের ফসল নিয়ে যাওয়া, অস্ত্রের মাধ্যমে হুমকি প্রদান এবং শিশু-কিশোরদের রসদ বহনে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অভিযান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস

এছাড়া তাদের গুপ্তআস্তানাটি আসন্ন সংসদ নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্রের নিকটে অবস্থান করায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট কতৃক অভিযানটির দ্রুত পরিকল্পনা করা হয়।

সেনাবাহিনী জানায়, অভিযানে শিশু-কিশোর ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযান পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed