কক্সবাজারে ৬০ টাকার মধ্যেই মিলছে বেশিরভাগ সবজি, ক্রেতাদের স্বস্তি
![]()
নিউজ ডেস্ক
কক্সবাজারের কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম কমে এসেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে। আগের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কমেছে। বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩০ টাকায়, যা আগে ছিল ৪০ টাকা। বেগুন ৪০ টাকা, আগে ছিল ৬০ টাকা। কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
এছাড়া শসা ৫০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, দেশি আলু ৪০ টাকা, লাল শাকের আঁটি ২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা এবং লাউ ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন সবজি বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দামও কিছুটা কমেছে।
শহরের বড় বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রবিউল আলম বলেন, “জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তাজা সবজি আমরা বাজারে বিক্রি করছি। বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দামও তুলনামূলক কম রয়েছে। ক্রেতারাও ন্যায্য মূল্যে সবজি কিনতে পেরে সন্তুষ্ট। আমরা ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত লাভের চিন্তা না করে অল্প লাভেই সবজি বিক্রি করছি, যাতে বাজারের দাম স্থিতিশীল থাকে এবং ক্রেতারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছে।”

সবজির দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। শহরের বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা আবু তৈয়ব বলেন, “কয়েকদিন আগেও বাজারে এসে সবজি কিনতে গেলে ১০০ টাকার নিচে কিছুই পাওয়া যেত না। এখন বেশিরভাগ সবজি ৫০–৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।”
তবে সবজির দাম কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে অনেকের। আরেক ক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, “সবজির দাম কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু তেল, গ্যাসসহ অন্যান্য জিনিসের দাম এখনো বেশি। রান্নার খরচ কমছে না। তাই পুরোপুরি স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না।”
অন্যদিকে মাছের বাজারে দামের ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে ৪০০ গ্রাম আকারের ইলিশ কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচমিশালী মাছ ২০০ টাকা, লইট্যা ২০০ টাকা, মলা ২০০ টাকা, টুনা ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ১০০০ টাকা, পাপদা ৩৫০ টাকা এবং অন্যান্য চিংড়ি ৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
মাছের দামের বিষয়ে জেলে বাজারের ক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, “কখনো মাছের দাম একটু কমে আবার হঠাৎ বেড়ে যায়। আজকে কিছু মাছের দাম তুলনামূলক কম মনে হচ্ছে, কিন্তু নিয়মিতভাবে স্থিতিশীল থাকলে ক্রেতাদের জন্য ভালো হতো।”

শহরের বড় বাজারের সবজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা হোসেন বলেন, “বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন মৌসুমি সবজি বাজারে আসছে, যার ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং দামও কিছুটা কমেছে। যদি এভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে সামনে আরও কিছুদিন সবজির দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সমিতির কোনো দোকানির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ নেই। সিন্ডিকেট করে ভোক্তাদের হয়রানি করার মতো কোনো মানসিকতাও আমাদের নেই। তবে যদি কোনো দোকান প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম আদায় করছে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সমিতির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কক্সবাজার জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হাসান আল মারুফ বলেন, “কক্সবাজারের প্রতিটি কাঁচাবাজারে আমাদের নিয়মিত অভিযান ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বর্তমানে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে অতিরিক্ত দাম নিতে না পারে এবং ক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি।
তিনি বলেন, “সামনে পবিত্র ঈদকে ঘিরে বাজারে কেনাকাটা বাড়ছে। তাই কাপড়ের দোকানগুলোতেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি কাপড়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও নজরদারি চলছে।”
হাসান আল মারুফ আরও বলেন, “বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের চারটি কসমেটিক্স দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। আমদানি মূল্যের রশিদ সংরক্ষণ না করা এবং পণ্যের গায়ে মূল্য উল্লেখ না থাকায় ওই দোকানগুলোকে মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।