রাঙামাটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট: ফিলিং স্টেশনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়ন

রাঙামাটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট: ফিলিং স্টেশনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়ন

রাঙামাটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট: ফিলিং স্টেশনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়ন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি শহরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করেছে। শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র একটি স্টেশনে সরবরাহ চালু থাকায় সাধারণ মানুষ, কৃষক ও পর্যটকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

আজ শনিবার শহরের মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনে অকটেন সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ যানবাহনের লাইন দেখা যায়। সকাল থেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছেন না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিমও সরবরাহ কার্যক্রম তদারকি করছে।

রাঙামাটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট: ফিলিং স্টেশনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়ন

জেলা শহরে সীমিত আকারে সরবরাহ থাকলেও উপজেলার খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি প্রায় অপ্রাপ্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় তারা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। অনেক এলাকায় জ্বালানি সংকটের কারণে খাবার পানির সংকটও তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সীমা চাকমা বলেন, তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটরের মাধ্যমে পানি তুলতে হয়। কিন্তু তেলের অভাবে পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি মাত্র ৫০০ টাকার তেল পেয়েছেন বলে জানান।

একই অবস্থা পর্যটকদের ক্ষেত্রেও। ঢাকার বাসিন্দা মো. তামিম হোসেন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে রাঙামাটিতে এসে বিপাকে পড়েছেন। তিনি জানান, একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরেও তেল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সীমিত পরিমাণ জ্বালানি পেয়েছেন, যা দিয়ে ঢাকায় ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

রাঙামাটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট: ফিলিং স্টেশনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়ন

মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল বাতেন জানান, ডিপো থেকে আগের বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে চার দিনে ৪ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হতো, এখন তা ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি পাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোথাও অনিয়ম বা মজুদের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, পর্যটন খাত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed