সরকারি ভূমি দখল করে পর্যটন এলাকায় দোকানপাট, ইউপিডিএফের অপপ্রচারে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ প্রশাসন!
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার অন্যতম আকর্ষনীয় বিনোদন স্পট আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র এলাকায় সরকারি খাস ভূমি দখল করে যত্রতত্র দোকানপাট খোলার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন একটি অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলদারদের দোকান বন্ধ রাখার চেষ্টা করলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের অব্যাহত অপপ্রচারের কারণে প্রশাসনের পদক্ষেপ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সরকারি ভূমি দখল প্রতিরোধ ও পর্যটন কেন্দ্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বড় ধাক্কা লেগেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলুটিলা পর্যটন এলাকার সড়কের দুই পাশে অনেক বাসিন্দা সরকারি খাস ভূমি দখল করে দোকানপাট স্থাপন করেছেন। গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় প্রশাসনের একটি দল দোকানদারদের কাছে বৈধ ভূমির কাগজপত্র দেখার অনুরোধ জানান। কাগজপত্র না দেখাতে পারায় প্রশাসন মৌখিকভাবে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে, এ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ ও তাদের সমর্থিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি থেকে অপপ্রচার চালানো হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউপিডিএফ নেতা ও একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এবং সম্প্রতি আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী মাইকেল চাকমা সরাসরি এ অপপ্রচারে যুক্ত ছিলেন। তারা স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপকে ভুল তথ্য ছড়িয়ে সমালোচনার মুখে ফেলে এবং স্থানীয় পাহাড়িদের উসকে দিয়ে সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

একদিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে অবৈধ দখলদারদের দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত দেয় স্থানীয় প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে জেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা মন্তব্য করেননি।
সরকারি পর্যটন পরিকল্পনার প্রেক্ষাপট
বিগত বছরগুলোতে সরকার আলুটিলা ও রিছাং ঝর্ণা পর্যটন কেন্দ্র এলাকায় মোট প্রায় ১০০ একর সরকারি খাস ভূমি নিয়ে মাষ্টারপ্ল্যান তৈরি করে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি পরিকল্পিত ‘ট্যুরিজম জোন’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল—পর্যটন কেন্দ্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা।

কিন্তু তখনও সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ইউপিডিএফ স্থানীয় সাধারণ পাহাড়িদের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মাঠ গরম করে এবং অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাতিল করিয়ে দেয়। এই বাধার কারণে স্থানীয় পর্যটন পরিকল্পনা বিলম্বিত হয় এবং পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি দেখা গেছে, ইউপিডিএফের ওই একই প্রভাব এখনও পর্যটন কেন্দ্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাকে প্রভাবিত করছে।
প্রশাসনের অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ
জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, বাংলা নববর্ষ ও বৈসাবি উৎসবের আগমুহূর্তে স্থানীয় প্রশাসন কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসন ঘোষণা করেছে, সরকারি খাস ভূমি দখলমুক্তকরণ এবং পর্যটন কেন্দ্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউপিডিএফের পর্যটনবিরোধী কর্মকাণ্ড পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকারি ভূমি দখল, সামাজিক অপপ্রচার এবং স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনা একযোগে স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখল প্রশাসনিক তদারকির অভাবে স্থায়ী পর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ অঞ্চলে পর্যটন থেকে আয় অর্জনকারী পরিবার ও সম্প্রদায়গুলো এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি ভূমি দখল প্রতিরোধ, সুষ্ঠু প্রশাসনিক নজরদারি এবং পর্যটন কেন্দ্রের মানসম্মত ব্যবস্থাপনা ছাড়া আলুটিলা ও রিছাং ঝর্ণার পর্যটন সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব নয়। সরকারি উদ্যোগ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই অঞ্চলের পর্যটন অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মন্তব্য করা হয়নি। তবে প্রশাসনের সূত্র জানিয়েছে, পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে বৈধ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং অবৈধ দখলমুক্ত করা তাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।