পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি চাইলেন অধ্যাপক থানজামা লুসাই

পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি চাইলেন অধ্যাপক থানজামা লুসাই

পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি চাইলেন অধ্যাপক থানজামা লুসাই
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে অনির্বাচিত অবস্থায় পরিচালিত পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধির দাবি জানিয়েছেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানাজামা লুসাই। তিনি বলেন, পার্বত্য জেলার জনগণের প্রত্যাশা—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতেই যেন জেলা পরিষদের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বান্দরবান শহরের রাজার মাঠে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসবের অন্যতম আয়োজন ‘মৈত্রী পানি বর্ষণ’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি।

বক্তব্যে অধ্যাপক থানাজামা লুসাই মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমি অনুরোধ করবো আমাদের মাননীয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে, তিনি যেন এই বার্তাটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন—আমরা চাই জেলা পরিষদ নির্বাচিত চেয়ারম্যানের হাতে হস্তান্তর করে যেতে পারি।”

তার এই বক্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।

একই অনুষ্ঠানে বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান, উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি চ থুই প্রুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্রীড়াবিদ এবং বিভিন্ন পাড়ার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মৈত্রী পানি বর্ষণের পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীরা নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতির উপস্থাপনা করেন।

তবে এই সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাঝেই পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১টিতে নিয়মিত জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে গত প্রায় ৩৭ বছর ধরে কোনো নির্বাচন হয়নি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ১৯৮৯ সালের ২৫ জুন এসব পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকার নির্বাচিত পরিষদ ভেঙে দিয়ে মনোনীত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করে। ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে আইন সংশোধন করে ‘পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ’ করা হলেও এরপর আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

বর্তমানে প্রচলিত আইনে জেলা পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারিত থাকলেও পার্বত্য অঞ্চলে তা বাস্তবায়ন হয়নি। আইনে বলা আছে, জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ ভোটে একজন চেয়ারম্যান ও ৩৩ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন, যেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিধানও রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নির্বাচন না দিয়ে বারবার মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে পরিষদ পরিচালনা করায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মূল চেতনাও উপেক্ষিত হচ্ছে। তারা মনে করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে জনগণের প্রত্যাশা ও জবাবদিহিতা দুটোই নিশ্চিত হবে।

এদিকে সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed