রাখাইনে নৌ উপস্থিতি বাড়াচ্ছে জান্তা, বিমান হামলা জোরদার
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দক্ষিণ রাখাইন রাজ্যের তাউনগুপ, রামরি ও থান্দোয়ে টাউনশিপ সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছে—যেসব এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মি (এএ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে এএ নিয়ন্ত্রিত টাউনশিপগুলোতে বিমান হামলাও জোরদার করেছে তারা।
প্রতিরোধ যোদ্ধা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ রাখাইনের এএ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ড্রোন নজরদারিও বৃদ্ধি করেছে জান্তা।
এর আগে থান্দোয়ে, তাউনগুপ, রামরি ও মানাউং উপকূলবর্তী এলাকায় একসঙ্গে হাতে গোনা কয়েকটি নৌযান দেখা যেত। তবে বর্তমানে প্রায় ১০টি নৌযান এসব জলসীমায় টহল দিচ্ছে এবং আগের তুলনায় উপকূলের অনেক কাছাকাছি অবস্থান করছে।
রামরির এক বাসিন্দা বলেন, “থিংগ্যান (মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ) শুরুর আগ থেকেই নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ছে। আগে তারা ২০ থেকে ৩০ মাইল দূরে থাকত, এখন অনেক কাছে চলে এসেছে। প্রতিদিন ড্রোন ওড়ানো হচ্ছে, তাই মানুষ ভয়ে ওই এলাকায় যাচ্ছে না।”
স্থানীয়দের মতে, নৌযানগুলো সমুদ্রে মাছ ধরার নৌকাগুলোকে আটক ও গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটাচ্ছে এবং উভচর অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেক জেলে সমুদ্রে যেতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন।
থান্দোয়ে টাউনশিপের এক বাসিন্দা জানান, “আগে নিয়মিত দুইটি নৌযান দেখা যেত। এখন তিন থেকে চারটি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। তারা উপকূলের কাছে আসে, আবার ফিরে যায়। প্রায় প্রতিদিনই ভারী অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হচ্ছে।”
স্থানীয়দের বরাতে রাখাইনের একটি গণমাধ্যম জানায়, শনিবার এএ নিয়ন্ত্রিত তাউনগুপ টাউনশিপের একটি মোহনায় ছয়টি নৌযান প্রবেশ করে ড্রোন নজরদারি চালায় এবং পরদিন সাগরে ফিরে যায়।
এএ’র ঘনিষ্ঠ কিয়াউকফিউ এলাকার এক সামরিক বিশ্লেষক বলেন, রাখাইনের শহরগুলো পুনর্দখল করা জান্তার জন্য সহজ হবে না। “তারা সর্বোচ্চ বিমান হামলা ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের পথেই যেতে পারে,” তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে এএ’র মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সোমবার পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সিত্তে ও কিয়াউকফিউসহ জান্তা নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় এএ বাহিনী নৌযান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণও করেছে বলে জানা গেছে।
পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি এএ আরাকান পর্বতমালার পূর্বদিকে আয়েয়ারওয়াডি, বাগো ও মাগওয়ে অঞ্চলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করেছে। ফলে এসব এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পর জান্তা এখন মূলত নৌ অভিযানের মাধ্যমেই সামরিক চাপ প্রয়োগ করছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিয়াউকতাউ, পোনাগিউন ও ম্রাউক-ইউ টাউনশিপে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা বাড়িয়েছে জান্তা বলে জানিয়েছে এএ।
রবিবার সকালে তিনটি যুদ্ধবিমান পোনাগিউন শহরের একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যুব উন্নয়ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও একটি বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে সাত দফা বিমান হামলা চালায়। এতে ওই স্থাপনাগুলো ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ছয়টি বেসামরিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন আহত হন।
একইদিন বিকেলে পোনাগিউনের একটি গ্রামে আরও একটি বিমান হামলায় একজন নিহত হন।
রবিবার সকালেই ম্রাউক-ইউ টাউনশিপের একটি গ্রামে মঠ ও বসতবাড়ি লক্ষ্য করে দুটি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস এবং ভিক্ষুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।
এই হামলাগুলোতে গবাদিপশুও নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে এএ। গত সপ্তাহেও কিয়াউকতাউ ও পালেতওয়া শহরে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় জান্তা।
বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি এবং চিন রাজ্যের পালেতওয়া টাউনশিপ এএ’র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত ১০ এপ্রিল এএ’র সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে বাহিনীর প্রধান তুন মিয়াত নাইং বলেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বা ২০২৭ সালের মধ্যে বাকি টাউনশিপগুলো দখলের লক্ষ্য রয়েছে। তা সম্ভব না হলে “পূর্ণ বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত” অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, রাখাইন রাজ্যে নৌ ও বিমান অভিযান বাড়ানোর মাধ্যমে জান্তা সামরিক চাপ ধরে রাখার চেষ্টা করছে, যদিও স্থলযুদ্ধে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।