চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের না দেওয়ার আহ্বান, এনসিটি ইজারা নিয়ে সতর্কবার্তা

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের না দেওয়ার আহ্বান, এনসিটি ইজারা নিয়ে সতর্কবার্তা

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের না দেওয়ার আহ্বান, এনসিটি ইজারা নিয়ে সতর্কবার্তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি। সংগঠনটির দাবি, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করবে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর, বিশেষ করে এনসিটি, দেশের জন্য “স্বর্ণের ডিম পাড়া বুনো হাঁস” হিসেবে বিবেচিত। অতীতে বিভিন্ন সময়ে এটি বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “ইকোনোমিক হিটম্যানদের চাপ ও পরামর্শে যদি এনসিটি বিদেশী প্রতিষ্ঠান বা ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হয়, তাহলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বন্দর বিদেশীদের দেওয়ার আগে কস্ট-বেনিফিট বিশ্লেষণ জরুরি—দেশ কী দিচ্ছে এবং বিনিময়ে কী পাচ্ছে, সে প্রশ্নের জবাব থাকতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তার ভাষ্য, অতীতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল বিদেশীদের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া দেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারত।

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের না দেওয়ার আহ্বান, এনসিটি ইজারা নিয়ে সতর্কবার্তা

জিয়াউল হক বলেন, ইজারা বা কনসেশন চুক্তি এবং অপারেটর নিয়োগ এক বিষয় নয়। তার মতে, কনসেশন চুক্তি সাধারণত নির্ভরশীল বা দুর্বল রাষ্ট্রগুলো করে থাকে, যার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষতি, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার, তথ্য ফাঁস এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন বন্দর বা এনসিটি কোনোভাবেই বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে কনসেশনে না দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরকে সিঙ্গাপুরের মতো আঞ্চলিক হাবে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানি এ ধরনের প্রতিযোগিতা চায় না বলেই বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও দাবি করেন, সিঙ্গাপুর বা ভিয়েতনামের বন্দরে বিদেশি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে তথ্য প্রচার করা হয়, তা বিভ্রান্তিকর।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে পাঁচটি প্রস্তাবও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—বন্দর বিকেন্দ্রীকরণ, নিজস্ব শিপিং লাইন চালু, রেমিট্যান্স বাড়াতে আরবি ভাষার ব্যবহার, নদী-খাল খনন এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জুবায়েদুল ইসলাম শিহাব, জাবির বিন মাহবুবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়ন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *