জুনে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন
![]()
নিউজ ডেস্ক
দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আগামী জুনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মিত এই স্টেশনটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৪২০ টেরাবাইট সংরক্ষণ সক্ষমতাসম্পন্ন এই গ্রাউন্ড স্টেশন চালু করতে কিছু পরিচালনাগত কাজ এখনও বাকি রয়েছে। স্টেশনটির লক্ষ্য ১১টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া, যার মধ্যে প্রায় ৭টির সঙ্গে আংশিক সংযোগ ইতোমধ্যে স্থাপন করা গেছে। চীনের কয়েকটি স্যাটেলাইট থেকে ভালোমানের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়াও, জাপান ও নাসার স্যাটেলাইট থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন স্যাটেলাইট থেকে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণের পাশাপাশি তথ্য বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে। আগামী জুনে চীনা প্রতিনিধিদল পরিদর্শনে এলে স্টেশনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
যা লাভ হবে
বর্তমানে বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ওপর নির্ভরশীল। এই গ্রাউন্ড স্টেশন চালু হলে দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা কমবে। একইসঙ্গে তথ্য সংগ্রহের সময় ২০–৩০ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ১৫–২০ মিনিটে নেমে আসবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্টেশনটি চালু হলে দেশের আবহাওয়া পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস, নদীভাঙন, বন উজাড়সহ পরিবেশ সম্পর্কিত নানা তথ্য দ্রুততম সময়ে পাওয়া যাবে। এর ফলে সাইক্লোন ট্র্যাকিং, উপকূলীয় বন্যা মডেলিং এবং আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন–সংক্রান্ত বিশ্লেষণ দ্রুত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য মাছ ধরার অঞ্চল চিহ্নিত করে টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা রাখা যাবে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-১৪) অর্জনেও ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য বাণিজ্যিক নয়, উদ্দেশ্য হলো গবেষণা ও শিক্ষার প্রসার। শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা স্টেশনে নির্দিষ্ট নিয়মে গবেষণা প্রস্তাব জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন, যা একাডেমিক প্রকাশনা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল ডাউনলিংক স্টেশন। এখানে তথ্য গ্রহণ করা হয়, প্রেরণ করা হয় না। ফলে অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণ নেই। চীনের সম্পৃক্ততা প্রযুক্তিগত সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।”
গত বছরের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কারিগরি সহায়তা দিয়েছে চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি। বাকি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।