বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে নতুন বার্তা
![]()
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী-এর নাম ঘোষণা করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তিনি শিগগিরই ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর কোনো পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিল ভারত। তিনি বর্তমান হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রণয় ভার্মা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং তাকে ইতোমধ্যে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা যায়, দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে নতুন হাই কমিশনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছে দিল্লি।
৭৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বাংলা ভাষায় সাবলীল এবং দুই বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে সুগভীর ধারণা রাখেন, যা তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক জীবনে দীনেশ ত্রিবেদী প্রথমে কংগ্রেসে যোগ দিলেও পরবর্তীতে জনতা দলে যুক্ত হন এবং ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে তিনি সেই দলে যোগ দেন এবং দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর আসন থেকে জয়লাভ করে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। পরে রেলমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে ২০২১ সালে তিনি দলটি ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর সরকারের এ নিয়োগকে কিছু বিশ্লেষক বাংলাদেশের প্রতি ‘বিশেষ বার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তাদের মতে, কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন হাই কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।