গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ দখলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, রাখাইনে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ দখলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, রাখাইনে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ দখলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, রাখাইনে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমার সামরিক বাহিনী মাগওয়ে অঞ্চল ও চিন রাজ্যের সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম পুনর্দখল করেছে, যার ফলে রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এতে ইতোমধ্যে তীব্র খাদ্য সংকটে থাকা রাখাইন অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মাগওয়ে সীমান্তবর্তী সও টাউনশিপে অবস্থিত কাংগি গ্রামটি চিন রাজ্যের কানপেতলেট ও মিনদাত এবং পশ্চিমে রাখাইন সীমান্তের পালেতওয়া টাউনশিপকে সংযুক্ত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সও টাউনশিপের কিয়াউকথু এলাকা থেকে পরিচালিত ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৬৮-এর সেনারা শনিবার গ্রামটি দখল করে নেয়। এ সময় আশপাশের এলাকায় গোলাবর্ষণ চালানো হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আটক করা হয়।

মিনদাত এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “শনিবার প্রায় ১০০ সেনা কাংগি গ্রাম দখল করে নেয়, পরদিন আরও সেনা আসে। ফলে এই পথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।”

একজন ব্যবসায়ী ইরাবতীকে জানান, “সেনা মোতায়েনের কারণে এই রুটটি বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযানের সময় কিছু বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে বলেও শুনেছি।”

এদিকে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষকে এই পথে যাতায়াত না করার জন্য সতর্ক করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাংগি গ্রামে এই অভিযানটি নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়ে উইন ওও-এর অধীনে রাখাইন অঞ্চলে বিমান হামলা ও উপকূলীয় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টিই জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে ‘অপারেশন ১০২৭’ শুরু করার পর চিন রাজ্যের পালেতওয়া টাউনশিপও দখল করে নেয় তারা। এর জবাবে সামরিক বাহিনী বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এই উপকূলীয় রাজ্যে অবরোধ আরোপ করে, ফলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্থানীয়রা ভারতের মিজোরাম রাজ্য ও মাগওয়ে অঞ্চল হয়ে চোরাপথে পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এএ এবং স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো চিন রাজ্যের ৯টির মধ্যে ৫টি টাউনশিপসহ অধিকাংশ গ্রামীণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে সামরিক বাহিনী মূলত রাজধানী হাখাসহ বিচ্ছিন্ন শহুরে এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এমনকি এসব এলাকাতেও প্রতিরোধ বাহিনীর ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে জান্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চিন রাজ্যের এক সামরিক বিশ্লেষক বলেন, কাংগি গ্রাম ও কিয়াউকথু এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধ বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “প্রতিরোধ বাহিনীকে কিয়াউকথু দখল করতেই হবে, না হলে সামরিক বাহিনী এটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আশপাশের এলাকা দখল করবে,” তিনি বলেন।

এদিকে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, এই অবরোধের ফলে রাখাইনে পণ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। এক রাখাইন ব্যবসায়ী বলেন, “অল্প সময়ের জন্যও এই পথ বন্ধ থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং দাম আরও বেড়ে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে।”

বর্তমানে রাখাইনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

এদিকে World Food Program এবং অন্যান্য সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, রাখাইনে “পূর্ণাঙ্গ মানবিক বিপর্যয়” দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, সেখানে ৫৭ শতাংশ পরিবার মৌলিক খাদ্য চাহিদা পূরণে অক্ষম।

প্রসঙ্গত, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাখাইন অঞ্চলের মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *