পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে প্লাবিত মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চল
![]()
নিউজ ডেস্ক
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে, অন্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ২০৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ২৭৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারার পানি। বুধবার এই নদীর পানি বিপৎসীমার ২৪১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও আজ ২৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলার একমাত্র জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার এই নদীর পানি ১০৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
বৃহস্পতিবার পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, মৌলভীবাজারের চারটি নদী উজান থেকে এসেছে। তাই বৃষ্টি হলে দ্রুত পানি নেমে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। আশার কথা হল, মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি কমে গেছে। ফলে বন্যার শঙ্কাও কমেছে।
টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের হাওর ও নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ধান কাটার মৌসুমে হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানান, গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আগাম বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে হাওর এলাকার পাশাপাশি জেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজার জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর হাওর এলাকায়। এরমধ্য হাওরের প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, তবে অবশিষ্ট ধান এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার কেওলার হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একইভাবে রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার হাওর ও নিম্নাঞ্চলের ধানক্ষেত প্লাবিত হয়েছে।
কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, ধান কাটার সময়ই হাওরের ধান ডুবে গেছে। আমরা অনেকেই ঋণ করে চাষ করেছি। এখন সেই ঋণ কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না।
কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কৃষক জুনেদ মিয়া বলেন, সব শেষ হয়ে গেছে। প্রতি একরে প্রায় ২৭ হাজার টাকা খরচ করেছি। কাটার সময়ই ধান পানির নিচে চলে গেছে।
হাকালুকি হাওর এলাকার কৃষক আব্দুস সবুর বলেন, সারাবছর কষ্ট করে ধান ফলিয়েছি। ঋণ করে বীজ, সার সব কিনেছি। এত কষ্টের ধান কাটার আগেই পানির নিচে চলে গেল। এখন সংসার চালাব কীভাবে, ঋণ শোধ করব কি দিয়ে কিছুই বুঝতে পারছি না।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত পাঁচ দিনে এ অঞ্চলে ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হাওরের ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ধান ডুবে গেছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।