দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়াল জাতিসংঘ

দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়াল জাতিসংঘ

দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়াল জাতিসংঘ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনমিস) মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। তবে বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও এই মিশনের আকার কমিয়ে আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পাস হওয়া এক প্রস্তাবে এই মিশনের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত ছিল।

জাতিসংঘ সদরদফতর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার পর এই শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মিশনে এখন থেকে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৫০০ সৈন্য থাকতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল ১৭ হাজার। তবে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা আগের মতোই প্রায় ২ হাজার ১০০ জন থাকছে।

গৃহীত প্রস্তাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের দফতরকে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে মিশনের সক্ষমতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোতায়েন করা সদস্য সংখ্যা ওই অঞ্চলের জন্য পর্যাপ্ত কি না, তা এই সমীক্ষায় খতিয়ে দেখা হবে।

শান্তিরক্ষী কমানোর এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তান। এছাড়া বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের তিন আফ্রিকান দেশ- সোমালিয়া, লাইবেরিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

অবশ্য নতুন এই সীমার কারণে বর্তমানে সেখানে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের সংখ্যার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ বাজেট স্বল্পতার কারণে মিশনটি ইতোমধ্যেই তাদের সদস্য সংখ্যা কমিয়ে এনেছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত মার্চ মাস শেষে দক্ষিণ সুদানে প্রায় ৯ হাজার সৈন্য মোতায়েন ছিল। অথচ এক বছর আগেও এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ হাজার।

চীনা রাষ্ট্রদূত সান লেই বলেন, ‘সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে আনায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মিশনকে আরও শক্তিশালী করা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

রুশ উপ-রাষ্ট্রদূত আনা এভস্তিগনিভা বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় শান্তিরক্ষা মিশনের হাতে পর্যাপ্ত সম্পদ থাকা প্রয়োজন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো এএফপি’কে জানিয়েছে, অনেক আলোচনার পর এই সমঝোতা প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তারা প্রথমে সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে ৭ হাজারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিল।

প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ তার অসন্তুষ্টির কথা জানান। তিনি বলেন, মূল সমস্যাটি হচ্ছে দক্ষিণ সুদান সরকার। তারা শান্তির প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করছে এবং তাদের সম্মতিতে যাওয়া মিশনটিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই প্রাণঘাতী সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ সুদান। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের অনুগত বাহিনী এবং গত বছর গৃহবন্দি হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচারের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *