টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে আশার আলো: বিস্ফোরণের ক্ষত পেরিয়ে কূপ খননের পরিকল্পনা

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে আশার আলো: বিস্ফোরণের ক্ষত পেরিয়ে কূপ খননের পরিকল্পনা

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে আশার আলো: বিস্ফোরণের ক্ষত পেরিয়ে কূপ খননের পরিকল্পনা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ গ্যাসক্ষেত্র টেংরাটিলা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দেশের শিল্প খাতে প্রথম গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল এই গ্যাসক্ষেত্র থেকেই। প্রায় ২৭ বছর ধরে এখান থেকে ২৭ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয় ছাতক সিমেন্ট কারখানায়। তবে পরিত্যক্ত এই গ্যাসক্ষেত্রে এবার দুটি কূপ খননের পরিকল্পনাসহ বিপুল পরিমাণ গ্যাস আহরণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করেছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অবস্থিত টেংরাটিলা দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের আবিষ্কৃত দ্বিতীয় সমৃদ্ধ গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। ২০০৩ সালে নাইকো-বাপেক্স যৌথভাবে কূপ খননের জন্য লিজ নেয়। কিন্তু খননের চূড়ান্ত পর্যায়ে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যায় ৮১৬টি ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রাণিসম্পদসহ পুরো পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মো. আবু হানিফা জানান, তিনদিন এখানে আগুন ছিল। পরে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হই। বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। এরপর আবার কাজ শুরু হলে আরেকবার ব্লো-আউট হয়ে অঘটন ঘটে, তখন প্রায় ১৩ দিন আগুন জ্বলেছিল।

একই এলাকার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মো. শামসুল হক জানান, ঘটনার পর এলাকায় গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগি গ্যাসের আগুনের তাপে মারা যায়। গ্যাসের সঙ্গে আসা দূষিত পানিতে মাছও মরে যায়, ফলে ফিশারিসহ জীবিকা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র ১৯৫৯ সালে আবিষ্কার করে, যা দেশের দ্বিতীয় সমৃদ্ধ গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রথম দিকে ছাতক সিমেন্ট কারখানায় দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন জানান, এখান থেকে মোটামুটি ২৭ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে এসে কূপটি বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর ২০০৩ সালে কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো ও বাপেক্স যৌথভাবে এই গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। তবে ২০০৫ সালে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর পুরো গ্যাসক্ষেত্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘ইকসিড’ ট্রাইবুনাল নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার রায় দেয়।

তবে পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রায় ৪০ বছর পর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে আবারও গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা নিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি। এর অংশ হিসেবে দুটি কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক হোসেন বলেন, দুটি নতুন কূপ খনন করা হবে। এগুলো সফল হলে পুরো এলাকায় থ্রিডি সিসমিক সার্ভে করা হবে। সেখানে ভালো সম্ভাবনা পাওয়া গেলে আরও কূপ খনন করা হবে। আমরা আশাবাদী, টেংরাটিলায় বড় রিজার্ভ রয়েছে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির আওতাধীন হরিপুর, টেংরাটিলা, কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের মোট ৩৪টি কূপের মধ্যে ১৭টি কূপ থেকে বর্তমানে দৈনিক ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *