ইউএই ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলা, পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি
![]()
নিউজ ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, দেশটির একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে স্থাপনাটির একটি অংশে আগুন লেগে যায়। সৌদি আরব বলেছে, তারা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ায় তেহরানকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। খবর রয়টার্স।
আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা গতকাল জানান, ড্রোন হামলার উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ধরনের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাব দেয়ার পূর্ণ অধিকার ইউএইর রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্টের এক কূটনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, এর পেছনে ‘মূল হামলাকারী’ কিংবা তার কোনো প্রক্সি গোষ্ঠী যে-ই চালিয়ে থাকুক না কেন, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি।
ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আরো দুটি ড্রোন ‘সফলভাবে’ প্রতিহত করা হয়েছে। সেগুলো ‘পশ্চিম সীমান্ত’ থেকে ছোড়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের ভূপাতিত করা তিনটি ড্রোন ইরাকের আকাশসীমা হয়ে প্রবেশ করেছিল। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টার জবাবে প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান থেকে সরাসরি হামলা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ইরাক থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে, বিশেষ করে সৌদি আরব ও কুয়েত লক্ষ্য করে ড্রোন ছোড়ার ঘটনা ঘটছে।
ইউএইর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ঢুকে পড়া ড্রোনটি আঘাত করে বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এটি কেন্দ্রে অভ্যন্তরীণ সীমানার বাইরে থাকা একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আঘাত হানে বলে আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে। এতে তেজস্ক্রিয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রভাবিত হয়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। পরে ইউএইর ফেডারেল অথরিটি ফর নিউক্লিয়ার রেগুলেশন নিশ্চিত করে, কেন্দ্রটি নিরাপদ রয়েছে এবং হামলায় কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিঃসরণ হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতির পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি পেরিয়ে এরই মধ্যে। তবে যুদ্ধের অবসান এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়ে দেশ দুটির অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।
তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি গুটিয়ে নিতে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে বলেছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, বন্দরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ইরান।
অচলাবস্থা ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ইরানের সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ!’
আগামীকাল ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প, এমনটা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। সেখানে সংঘাত নিরসনে বেইজিংয়ের সহায়তার কোনো আশ্বাস পাননি তিনি।
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র আবুলফাজল শেখারচি বলেন, ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নতুন, আগ্রাসী ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে। তারা ‘নিজেদের তৈরি অচলাবস্থায়’ আটকে পড়বে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, যা জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরের ওপর নিজেদের অবরোধ জোরদার করেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত তারা ৮১টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে চারটি জাহাজ অচল করেছে।
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান এব্রাহিম আজিজি গত শনিবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নির্ধারিত রুট ধরে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছে তেহরান। এটি শিগগির প্রকাশ করা হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।