নাগরিকদের ধরে নিয়ে সেনাবাহিনীতে ভর্তির অভিযোগ, নতুন নির্দেশে উদ্বেগ বাড়ছে মিয়ানমারে

নাগরিকদের ধরে নিয়ে সেনাবাহিনীতে ভর্তির অভিযোগ, নতুন নির্দেশে উদ্বেগ বাড়ছে মিয়ানমারে

নাগরিকদের ধরে নিয়ে সেনাবাহিনীতে ভর্তির অভিযোগ, নতুন নির্দেশে উদ্বেগ বাড়ছে মিয়ানমারে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল তুন অং আঞ্চলিক প্রশাসনগুলোকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাধ্যতামূলক সেনাসেবার তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই নাগরিকদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে বিতর্কিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন করে তীব্র হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার নেপিদোতে কেন্দ্রীয় নিয়োগ সংস্থার বৈঠকে প্রথম উপস্থিত হয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন। দেশের প্রতিটি উপজেলার ইমিগ্রেশন অফিসে পরিবারের সদস্যদের জন্মতারিখ ও পেশাসহ বিস্তারিত তালিকা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ নাগরিক এই বাধ্যতামূলক সেনাসেবার আওতায় পড়তে পারেন।

২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সেনাপ্রধান ও অভ্যুত্থান নেতা মিন অং হ্লাইং এই আইন কার্যকর করেন। এর আগে ‘অপারেশন ১০২৭’-এ তিনটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোটের কাছে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে সেনাবাহিনী।

আইন কার্যকরের পর থেকেই সুস্থ-সবল পুরুষদের—এমনকি ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোর ও নির্ধারিত বয়সসীমার বাইরে থাকা ব্যক্তিদেরও—বাড়ি, রাস্তা ও যানবাহন থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বাগো অঞ্চলের শ্বেদাউং টাউনশিপের এক ৩০ বছর বয়সী মোটরসাইকেল মেকানিককে ২৯ এপ্রিল অপহরণ করা হয় বলে তার বড় ভাই জানিয়েছেন।

“সে যন্ত্রাংশ আনতে বের হয়েছিল, তখনই তাকে আটক করা হয়,” বলেন তিনি।
পরিবারটি এখনো জানে না তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে। মুক্তির জন্য তার মা বাড়ি বন্ধক রাখার চেষ্টা করছেন। সেনা নিয়োগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাঁদাবাজি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ।

ইয়াঙ্গুনের এক তরুণ জানান, শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তাকে ১২ মে সেনাসেবার জন্য নিবন্ধনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
“আমি অ্যাজমায় ভুগি। আপিলের অংশ হিসেবে চিকিৎসার কাগজ দেখানোর পরিকল্পনা করছি,” বলেন তিনি।

আইন অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ এবং ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী নারীদের দুই বছর বাধ্যতামূলক সেনাসেবা করতে হবে। এই আইনের কারণে বহু তরুণ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

সরকার বলছে, প্রতি দফায় ৫ হাজার করে বছরে ৫০ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে না। তবে প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনী থেকে পলায়নকারী সদস্যদের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্তদের সরাসরি যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে।

পলায়নকারীদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এসব নতুন সদস্যকে “ক্যানন ফডার” বা সম্মুখযুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ পালানোর চেষ্টা করলে গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, গত দুই বছরে ২৪ দফায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে এই আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, ১১৫ জনকে বীরত্বের জন্য পুরস্কৃত করে নেতৃত্বের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বড় শহরগুলোতেও অপহরণের মাধ্যমে এই আইন প্রয়োগের অভিযোগ তিনি উল্লেখ করেননি।

সরকার বলছে, দুই বছর শেষে সেনাসেবায় নিয়োজিতদের বাড়ি ফেরানো হবে। তবে Myanmar Defense & Security Institute (এমডিএসআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ৫ হাজার সদস্যের মধ্যে মাত্র ২ হাজার ২৭ এপ্রিল নির্ধারিত সময় শেষে বাড়ি ফিরেছে।

এমডিএসআই-এর কো নাউং ইয়ো জানান, বাকি ৩ হাজারের কেউ পালিয়েছে, কেউ যুদ্ধে নিহত হয়েছে, কেউ আহত হয়ে অব্যাহতি পেয়েছে বা স্বেচ্ছায় থেকে গেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ জন নিয়োগপ্রাপ্ত সেনাসদস্য পালিয়ে গেছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *