উত্তর প্রদেশের রাস্তায় নামাজ পড়া নিয়ে যোগী আদিত্যনাথের হুঁশিয়ারি
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাস্তায় বা গণপরিবহনের চলাচলের পথ বন্ধ করে নামাজ আদায়ের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাস্তা বন্ধ করে এ ধরনের গণজমায়েত তার সরকার কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
সোমবার লক্ষ্ণৌতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর প্রদেশ প্রশাসন প্রথমে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে এই নিয়ম কার্যকরের চেষ্টা করবে। তবে সেই পদ্ধতিতে কাজ না হলে জনশৃঙ্খলার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘আপনাদের নামাজ পড়তে হবে, আপনারা ধাপে ধাপে ভাগ হয়ে তা পড়তে পারেন। আমরা আপনাদের ভালোবাসার সঙ্গে বোঝাব, আর তাতে যদি কাজ না হয়, তবে অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে।’
পরে তিনি তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করেছেন।
আদিত্যনাথ আরও বলেছেন, রাস্তা মূলত সাধারণ পথচারী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, রোগী ও জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলের জন্য। সেখানে কোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়। মোড় বা চৌরাস্তাগুলোকে জমায়েতের স্থানে পরিণত করার অধিকার কারও নেই।
তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করা হয়, উত্তর প্রদেশে কি আসলেই মানুষ রাস্তায় নামাজ পড়ে না? আমি স্পষ্টভাবে বলি, একেবারেই না। আপনারা নিজেরা গিয়ে দেখে আসতে পারেন। রাস্তা চলাচলের জন্য তৈরি। কেউ কি এসে চৌরাস্তায় তামাশা তৈরি করে যান চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে? সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করার কী অধিকার আছে কারও?’
আইন সবার জন্য সমান এবং পাবলিক প্লেসের অপব্যবহার করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নামাজ বন্ধ করব না, তবে এটি রাস্তায় হওয়া চলবে না।’
বিজেপির এই প্রভাবশালী নেতা অবশ্য এবারই প্রথম প্রকাশ্য স্থানে নামাজ আদায়ের বিরোধিতা করলেন এমন নয়। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও তিনি তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সে সময় তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হলেও ‘হিন্দুদের উৎসবের আগে কারফিউ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতো’।
যোগী আদিত্যনাথের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)। দলের মুখপাত্র অসীম ওয়াকার অভিযোগ করে বলেন, উত্তর প্রদেশ সরকার নাগরিকদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখে এবং রাজ্যে হিন্দু ও মুসলমানদের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা হয়।
অসীম ওয়াকার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘যোগীজি বলছেন উত্তর প্রদেশে আইনের শাসন রয়েছে। রাস্তা হাঁটার জন্য, নামাজ পড়ার জন্য নয়। যদি রাস্তায় নামাজ পড়া না যায়, তবে পুজার আরতির জন্য কেন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়? এটাই কি আইনের শাসন?’
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।