চিন রাজ্যে বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে তৎপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী চিন রাজ্যে কৌশলগত শহর ও সীমান্ত বাণিজ্যপথ পুনর্দখলের লক্ষ্যে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান জোরদার করেছে বলে স্থানীয় সূত্র ও প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে।
১১ ও ১২ মে দক্ষিণ চিনের মিন্দাত শহর ও আশপাশ এলাকায় অন্তত ১১ বার বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। এতে যুদ্ধবন্দিসহ চারজন নিহত হন এবং ১৫টি বাড়ি ও ১০টি সরকারি ভবন ধ্বংস হয় বলে জানিয়েছে চিন পিপলস ইউনিয়ন/চিন পিপলস আর্মি (CPU/CPA)। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একাধিক যুদ্ধবিমান একসঙ্গে হামলা চালানোয় তারা সারাদিন বাংকারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
এদিকে, চিন রাজ্যের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী মাগওয়ে অঞ্চলের স’ টাউনশিপে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে জান্তা বাহিনী।
এপ্রিলের শেষ দিকে প্রায় ২০০ সদস্যের একটি সেনা দল স’ টাউনশিপের উত্তরের কাংজি গ্রাম দখল করে, যেখানে থেকে মিন্দাতের দিকে সড়ক বিভক্ত হয়েছে। কাংজি থেকে মিন্দাতের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। এছাড়া মাগওয়ের পাউক ও সেকফিউ এলাকায় অবস্থিত অস্ত্র কারখানা (KaPaSa-24 ও KaPaSa-22)-এ প্রায় ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
CPU এবং মিত্র ‘চিন ব্রাদারহুড’-এর মুখপাত্র সালাই ইয়াও মার্ন সতর্ক করে বলেছেন, জান্তা বাহিনী পূর্ণমাত্রার দক্ষিণাঞ্চলীয় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে স’, কিয়াউকতু এবং তিলিন টাউনশিপে প্রতিদিনই বোমা হামলা চালানো হচ্ছে। সেনাবাহিনী মাগওয়ে-চিন সীমান্ত করিডোর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে।”
এই নতুন হামলা শুরু হয়েছে ২৫ এপ্রিল ফালাম শহর পুনর্দখলের পর। ছয় মাসের অভিযানের পর চিন রাজ্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি পুনরায় দখল করে জান্তা বাহিনী। উত্তর চিন পাহাড়ে অবস্থিত ফালাম শহরে রাজ্যের একমাত্র বিমানবন্দর রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এটি চিন ব্রাদারহুডের দখলে গিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ফালাম পুনর্দখলের পর এখন জান্তা বাহিনী রাজ্যের রাজধানী হাখার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ১৪ মে ফালাম-হাখা সড়কে অগ্রসরমান সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে চারজন সেনাকে হত্যা এবং এক কৌশলগত কমান্ডারকে আহত করে চিন বাহিনী।
অন্যদিকে, তেদিম-কালে করিডোরেও নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে জান্তা বাহিনী। এ অভিযানে জাতিগত জোমি সশস্ত্র সংগঠন Zomi Revolutionary Army (ZRA)-এর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে এবং উত্তর চিনের টোনজাংয়ের দিকে প্রায় ৬০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত তেদিম-কালে বাণিজ্যপথে ইতোমধ্যে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরোধ গোষ্ঠীর তথ্যমতে, এ পথে চেকপোস্ট স্থাপন এবং অন্তত তিনটি গ্রাম দখল করেছে জান্তা বাহিনী।
একজন চিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “ভারত সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায় জান্তা বাহিনী। টোনজাংয়ে ZRA-এর সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে তারা সীমান্ত বাণিজ্যপথ পুনর্দখলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
বর্তমান পরিস্থিতির কারণে টোনজাং থেকে তেদিম সড়কে যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছে চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স-টোনজাং।
সামরিক বিশ্লেষক ও সেনা থেকে পলায়নকারীদের মতে, জান্তা বাহিনীর পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ভারতের সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র রিহখাওদার। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০ বাসিন্দা ভারতে মিজোরাম রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ফালাম হারালেও চিন প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো এখনো টোনজাং, মিন্দাত, কানপেতলেট ও মাতুপি—এই চারটি টাউনশিপ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, রাখাইন রাজ্যের পালেতোয়া এলাকা আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশই প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হাখার মতো শহরগুলোতে জান্তা বাহিনীর উপস্থিতি সীমিত রয়েছে।
চিনে সেনা অভিযানের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে অবরোধ কৌশলও যুক্ত রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আরাকান আর্মি রাখাইনের ১৭টির মধ্যে ১৪টি টাউনশিপ নিয়ন্ত্রণ করায় চিন-রাখাইন বাণিজ্যপথ বন্ধ করে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র করেছে জান্তা বাহিনী। এর ফলে রাখাইনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কেন্দ্রীয় মিয়ানমারের তুলনায় পাঁচগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।