ভারত অংশে দ্রুত এগোচ্ছে কহুয়া নদীর বাঁধ নির্মাণ কাজ, বাংলাদেশ এখনও দর্শক
কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে দ্রুত গতিতে চলছে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ।
![]()
নিউজ ডেস্ক
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী কোলাপাড়া ও বাঁশপদুয়া এলাকায় কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে দ্রুতগতিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চললেও বাংলাদেশ অংশে এখনো কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, ভারত অংশে বাঁধ উঁচু ও মজবুত হয়ে গেলে বর্ষায় নদীর বাড়তি পানির চাপ বাংলাদেশের দুর্বল অংশে এসে ভয়াবহ বন্যা ও ভাঙনের সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশ অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এখনো কোনো অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় থমকে আছে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ। অথচ দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পর গত প্রায় ১৫ দিন ধরে ভারত তাদের অংশে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের ২১৬৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের উভয় পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ভারতের বিলোনিয়া সংলগ্ন আমজাদনগর এলাকায় ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের পরশুরাম বাজার সংলগ্ন উত্তর কোলাপাড়ায় ২৫০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়।
তবে চুক্তির পর ভারত তাদের অংশে দ্রুত কাজ শুরু করলেও বাংলাদেশ অংশে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে উত্তর কোলাপাড়া গ্রামের রেললাইন সেতুর পূর্বপাশে বেড়িবাঁধের ওপর কয়েক হাজার সিসি ব্লক অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০০৩ সালে প্রায় ২৫ হাজার সিসি ব্লক তৈরি করে কাজ শুরু করা হলেও সে সময় বিএসএফের বাধার কারণে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় বল্লামুখা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে কিছু ব্লক সেখানে ব্যবহার করা হলেও অধিকাংশ ব্লক এখনো অবহেলায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের মতে, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক স্থানে বড় বড় ফাটল তৈরি হওয়ায় বর্তমানে বাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় ভারত তাদের অংশের বাঁধ শক্তিশালী করে ফেললে বর্ষায় পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানির চাপ বাংলাদেশের দুর্বল অংশে এসে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

উত্তর কোলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা খোকন বলেন, “ভারত যে বেড়িবাঁধটি দিচ্ছে সেটি সম্পন্ন হয়ে গেলে আমাদের বাংলাদেশের অংশের বাঁধটি কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়বে। অতীতে সিসি ব্লক বসানোর জন্য টেন্ডার হলেও ভারতীয় বাধার কারণে কাজ শেষ করা যায়নি। এখন ভারত ঠিকই তাদের কাজ করছে, কিন্তু আমরা পিছিয়ে আছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই বর্ষায় ভাঙন থেকে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া, বেড়াবাড়িয়া ও পরশুরাম বাজারসহ প্রায় ১০টি গ্রাম রক্ষা করতে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
একই গ্রামের বাসিন্দা ইমরান ও সোহাগ বলেন, গত বন্যায় ফাটল ধরার পর গ্রামের মানুষ নিজেরাই পরিশ্রম করে কোনোমতে বাঁধটি টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু এবার পানি এলে সেই বাঁধ আর টিকবে না। দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হলে মানুষ বসবাস ও খাদ্য সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ফেনী ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর বিল্লাল হোসেন জানান, দুদেশের সম্মতিতেই বাঁধ সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে বল্লামুখা বাঁধ এবং নিজ কালিকাপুর এলাকার একটি কবরস্থানের সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। ভারত কহুয়া নদীর তাদের অংশে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ অংশে কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “বাঁধের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের।”
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “বাঁধটি কীভাবে নির্মাণ করা হবে সে বিষয়ে বিজিবির অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা চলছে। স্থানীয় মানুষ যেভাবে উপকৃত হয়, সেভাবেই দ্রুত বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সীমান্তবাসীর দাবি, সরকার যদি এখনই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ না নেয় এবং দ্রুত বাংলাদেশ অংশের বাঁধ সংস্কার শুরু না করে, তাহলে এবারও ফেনীর বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যেন ভারতের কাজের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ শুরু করে, সেটিই এখন পরশুরামবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।