সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি রংপুর রিজিয়নের বড় সাফল্য, এক বছরে ৯৪ কোটির মালামাল জব্দ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”
![]()
নিউজ ডেস্ক
দেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর রংপুর রিজিয়ন। গত ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৪ কোটি ৫২ লাখ ৬৯ হাজার টাকারও বেশি মূল্যের মাদক ও চোরাচালানকৃত মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে এসব অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৪৭ জনকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) সকালে পঞ্চগড় (১৮ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন ৪টি সেক্টর ও ১৫টি ব্যাটালিয়ন মোট ১,৬৬৮.৮৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। এই দীর্ঘ সীমান্তে চোরাচালান, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্য
বিগত এক বছরে বিজিবি বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ২৫ হাজার ৬২ বোতল ফেনসিডিল, ১৭ হাজার ১১১ বোতল বিদেশি মদ, ৩০ হাজার ১৯০ পিস ইয়াবা এবং ৬৩ কেজি গাঁজা। এছাড়া ১ লাখ ২ হাজার ১৭৯ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ, ২ লাখ ৫০ হাজার ৯২৩ পিস মেটাডক্সিন ট্যাবলেট, ১ লাখ ৮০ হাজার ৩৫৯ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ৪১ হাজার ৭২৬ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে।
অস্ত্র ও মানব পাচার রোধ
এ সময় ১৪টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, ৭টি ওয়ান শ্যুটার গান, ২৫টি ম্যাগাজিন, ৭৫ রাউন্ড গুলি এবং ৫ হাজার ৩৫০ রাউন্ড সীসা গুলি উদ্ধার করা হয়। মানব পাচার রোধে ভারত থেকে পাচারের সময় ১৩ জন নারী ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
চোরাচালান ও গবাদিপশু জব্দ
অভিযানে ২ হাজার ২৫৩টি গরু, ৫৩৩টি মহিষ ও ৩৪টি ছাগল আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনসহ চোরাচালানি পণ্যও জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রসাধনী, শাড়ি, লেহেঙ্গা, কম্বল, চিনি, পেঁয়াজ ও মোবাইল ফোন। এছাড়া ২৪ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলার এবং ৩ লাখ ২৩ হাজার ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতীয় দায়িত্ব ও মানবিক কার্যক্রম
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও তারা ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসা ক্যাম্প এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মতো মানবিক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার ও অপরাধ দমনে তাদের এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।