আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় বাবার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় বাবার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় বাবার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় বাদী তার বাবা জামাল উদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ করেছেন আদালত।

বুধবার (২০ মে) চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়। কারাগারে থাকা অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদীর আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আসামি চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে ষষ্ঠবারের মতো আজ সময় আবেদন করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি।’

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলার শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য উপস্থিত সাক্ষীকে জেরা করার জন্য সময়ের আবেদনের একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়, নিয়োজিত আইনজীবী শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি, তাই জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করা হচ্ছে। তবে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করা হলেও নিয়োজিত আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে অন্য কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

একই সঙ্গে মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নিহত আলিফের বাবার সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করে পরবর্তী সাক্ষীর প্রতি সমন ইস্যুর আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ জুন।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি মামলায় চার্জ গঠনের পর ২ ফেব্রুয়ারি নিহত আইনজীবী আলিফের বাবা প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে জেরা কার্যক্রম সম্পন্ন না করে সময় আবেদন করে আসছে আসামিপক্ষ। এ নিয়ে মোট ছয়বার সময় আবেদন করা হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, প্রায় ৮০ বছর বয়সী, অসুস্থ ও বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত নিহত আলিফের বাবা প্রতিটি ধার্য তারিখে লোহাগাড়া থেকে আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন। কিন্তু বারবার সময় মঞ্জুর হওয়ায় তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আজ আদালতে আমাদের পক্ষ থেকে জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত যথার্থ বিবেচনায় বাদীর সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন।’

মামলার শুনানিতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। এ ছাড়া অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিকালে চিন্ময় দাস আদালতের অনুমতি নিয়ে তার মা ও আশ্রমের দুই সন্ন্যাসীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করেন। পাশাপাশি জামিন, চিকিৎসা ও সময় চেয়ে তিনটি আবেদন দাখিল করা হলেও আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে আদালত সেগুলোও শুনানি ছাড়াই নামঞ্জুর করেন।

২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়, আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে সময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে কারাগারে নেওয়ায় বাধা প্রদান করেন।

পরে বিক্ষোভকারীরা আদালত চত্বরে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় অবস্থিত একটি চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে তারা আদালতের বিপরীত পাশে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় আইনজীবী আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে।

আলিফ নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতয়ালি থানায় তার বাবা জামাল উদ্দিন হত্যা মামলা করেন। বর্তমানে আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আইনজীবীদের ওপর হামলা, বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের অভিযোগে আলিফের ভাই খানে আলম আরেকটি মামলা করেন, যেখানে ১১৬ জনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরও তিনটি মামলা করে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *