উত্তরপ্রদেশে প্রকাশ্যে কোরবানির পশু জবাই চলবে না: যোগী আদিত্যনাথ

উত্তরপ্রদেশে প্রকাশ্যে কোরবানির পশু জবাই চলবে না: যোগী আদিত্যনাথ

উত্তরপ্রদেশে প্রকাশ্যে কোরবানির পশু জবাই চলবে না: যোগী আদিত্যনাথ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রকাশ্যে পশু কোরবানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একইসঙ্গে উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি জোরদার করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (২৪ মে) রাজ্যের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

কোরবানি ও নামাজ নিয়ে কড়া নির্দেশনা যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোরবানি কেবল আগে থেকে নির্ধারিত স্থানেই দিতে হবে। নতুন কোনো প্রথাকে উৎসাহিত করা যাবে না এবং নিষিদ্ধ প্রাণী কোরবানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা কঠোরভাবে বহাল থাকবে।

তিনি নির্দেশ দেন, ঈদের নামাজ কেবল ঐতিহ্যবাহী বা নির্ধারিত স্থানেই আদায় করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ কসাইখানা বন্ধ কোরবানির পর বর্জ্য অপসারণে প্রতিটি জেলায় একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, প্রকাশ্যে মাংস বিক্রি করা যাবে না এবং অবৈধ কসাইখানাগুলো কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। এমনকি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানাগুলোতেও নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি পশু রাখা যাবে না।

নিরাপত্তা ও নজরদারি উৎসবের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যোগী। সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে উৎসবের আগেই ফ্ল্যাগ মার্চ পরিচালনা এবং ধর্মীয় স্থানগুলোর আশেপাশে পুলিশের নিয়মিত টহল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

আলীগড়, বিজনোর, সাহারানপুর, রামপুর ও সাম্ভালের মতো সংবেদনশীল জেলাগুলোর ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রধানদের সাথে মতবিনিময়কালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, থানা, তহসিল ও জেলা পর্যায়ে শান্তি কমিটিগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গঙ্গা দশহরা ও অন্যান্য প্রশাসনিক উদ্যোগ আসন্ন গঙ্গা দশহরা উৎসবের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে প্রয়াগরাজ, বারাণসী, অযোধ্যা, চিত্রকূট, হাপুর, মুজাফফরনগর এবং আমরোহায় নদীর ঘাটের পরিচ্ছন্নতা, ব্যারিকেড স্থাপন, অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন, দর্শনার্থীদের জন্য ছায়া ও পার্কিং ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেন তিনি। তীব্র গরমের কারণে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নম্বর প্লেটবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অবৈধ খনি খনন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেসব জেলায় এখনও প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সেখানে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

সাপ্তাহিক জনসমাবেশ ও আয়ুষ নীতি-২০২৬ জনগণের বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ব্লক পর্যায়ে সাপ্তাহিক ‘চৌপাল’ বা জনসমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেন যোগী। এর মাধ্যমে রাজস্ব বিরোধ, গার্হস্থ্য সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশের কাছে নথিভুক্ত না হওয়া অভিযোগগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, সরকারি সুবিধার বাইরে থাকা যোগ্য ব্যক্তিরাও এসব সমাবেশের মাধ্যমে প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন।

সবশেষে, রাজ্যে ‘আয়ুষ স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নীতি-২০২৬’ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। উত্তরপ্রদেশকে কেবল চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে আয়ুষ চর্চা, যোগব্যায়াম, পঞ্চকর্ম, ন্যাচারোপ্যাথি ও পর্যটনের সমন্বয়ে একটি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা গন্তব্যে পরিণত করার ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *