কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ, সাহায্য সংকটে হিমশিম অবস্থা

কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ, সাহায্য সংকটে হিমশিম অবস্থা

কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ, সাহায্য সংকটে হিমশিম অবস্থা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে ইবোলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীর সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত ১১৯ সন্দেহভাজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই ইতুরি প্রদেশের।

একদিকে প্রাণঘাতী ভাইরাসের থাবা, অন্যদিকে বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অনবরত সহিংসতা চলছে। যার ফলে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে এখন এক মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির জটিলতা স্পষ্ট হয়ে গত সপ্তাহের একটি ঘটনায়। ইবোলা প্রাদুর্ভাবের প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত দুটি শহরে ক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সহিংসতা, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং স্থানীয় সরকারের চরম ব্যর্থতার মুখোমুখি। স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনা মূলত দীর্ঘদিনের সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ, যা ওই অঞ্চলের ইতিমধ্যে ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও বেশি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

নড়বড়ে নিরাপত্তা ও শরণার্থী শিবিরে ছড়ানোর শঙ্কা

পূর্ব কঙ্গোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নড়বড়ে। রুয়ান্ডা-সমর্থিত ‘এএফসি/এম২৩’ বিদ্রোহীরা অঞ্চলটির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও ইবোলার কেন্দ্রস্থল উত্তর-পূর্ব ইতুরি প্রদেশটি কঙ্গো সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে, তবে সেই নিয়ন্ত্রণ খুবই দুর্বল। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী গ্যাব্রিয়েলা আরেনাস বলেছেন, এই প্রাদুর্ভাব এমন সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়াচ্ছে, যারা আগে থেকেই নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবায় জর্জরিত। বর্তমানে বুনিয়া শহরের নিকটবর্তী বড় বড় বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সাহায্য কমেছে, বেড়েছে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য ধনী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সাহায্য হ্রাস করেছে। যা এই অঞ্চলের জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি ডেকে এনেছে। ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-এর জনস্বাস্থ্য পরিচালক টমাস ম্যাকহেল জানান, এই অর্থ কাটছাঁটের ফলে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত ও মোকাবিলা করার সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা।

মাঠ পর্যায়ের সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তাদের কাছে ইবোলা প্রতিরোধের মৌলিক সরঞ্জামটুকুও নেই। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য ফেস শিল্ড, পিপিই স্যুট, টেস্টিং কিট এবং মৃতদেহ নিরাপদে দাফন করার জন্য প্রয়োজনীয় বডি ব্যাগের তীব্র সংকট চলছে।

বুনিয়ার কাছে একটি হাসপাতাল পরিচালনাকারী সংস্থা ‘উইমেন’স সলিডারিটি ফর ইনক্লুসিভ পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর সভাপতি জুলিয়েন লুসেঞ্জ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন অংশীদারদের কাছে অনুরোধ করলেও এখনও কিছুই পাইনি। আমাদের কাছে শুধু হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর নার্সদের জন্য কয়েকটি মাস্ক আছে।’

নেই কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইবোলা ভাইরাসের ধরনটি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্দিবুগিও’। এই ধরনের ইবোলা ভাইরাসের বর্তমানে কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

কঙ্গোর এই প্রাদুর্ভাবটি বর্তমানে সরকার, বিদ্রোহী কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার মাধ্যমে মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। তবে এর মধ্যেই পার্শ্ববর্তী উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু প্রদেশ এবং প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলা ছড়িয়েছে। যা পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের মহামারি সতর্কতা সংকেত দিচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *